Header Ads Widget

Responsive Advertisement

Ticker

6/recent/ticker-posts

তথ্য প্রযুক্তি,তথ্য প্রযুক্তি সম্পুর্ণ কোর্স

 

তথ্য প্রযুক্তি সম্পুর্ণ কোর্স

 


ই-কমার্স কি

একটি দেশের বিকাশ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাণিজ্যের কোন বিকল্প নেই। ডিজিটাল প্রযুক্তির বিকাশ, ইন্টারনেটের উদ্ভব ও বিকাশ এবং কাগজের মুদ্রার বাইরেও ইলেকট্রনিক বিনিময় প্রথা চালু হওয়ার ফলে বাণিজ্যেরও একটি সবিশেষ পরিবর্তন হয়েছে। এখন ইলেকট্রনিক মাধ্যমেও বাণিজ্য করা যায়,যার প্রচলিত নাম ই-কমার্স (Electronic Commerce or E-commerce) বা ই-বাণিজ্য। আধুনিক ইলেকট্রনিক কমার্স সাধারণত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর মাধ্যমে বানিজ্য কাজ পরিচালনা করে। এছাড়াও মোবাইল কমার্স, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার ও অন্যান্য আরো কিছু মাধ্যম ব্যবহৃত হয়।

যেকোনো পণ্য বা সেবা বাণিজ্যের কয়েকটি শর্ত থাকে। প্রথমত বিক্রেতার কাছে এবং ক্রেতা কর্তৃক তার বিনিময় মূল্য পরিশোধ করা। এর প্রধান পদ্ধতি হল বিক্রেতার সঙ্গে ক্রেতার সরাসরি যোগাযোগ। কিন্তু ইন্টারনেটের যুগে একজন বিক্রেতা তার পণ্যের ছবি, ভিডিও দিয়ে ইন্টারনেটেই তার দোকানটি খুলে বসতে পারেন। এজন্য তার প্রতিষ্ঠানের একটি ওয়েবসাইট চালু করতে হয়। ক্রেতা অনলাইনে তার পছন্দের পণ্যটি পছন্দ করেন এবং মূল্য পরিশোধ করেন। দেশে বর্তমানে বিভিন্ন ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে এই মূল্য পরিশধের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও মূল্য পরিশোধ করা যায়। মূল্য প্রাপ্তির পর বিক্রেতা তার পণ্যটি ক্রেতার ঠিকানায় নিজে অথবা পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের (কুরিয়ার সার্ভিস) মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন।

মোবাইল বা কার্ড ছাড়াও ই-কমার্সে আরো একটি বিল পরিশোধ পদ্ধতি রয়েছে। এটিকে বলা হয় প্রাপ্তির পর পরিশোধ বা ক্যাশ অন ডেলিভারি বা COD। এই পদ্ধতিতে ক্রেতা বিক্রেতার ওয়েবসাইটে বসে পছন্দের পণ্যটির অর্ডার দেন। বিক্রেতা তখন পণ্যটি ক্রেতার কাছে পাঠিয়ে দেন। ক্রেতা পণ্য পেয়ে বিল পরিশোধ করেন।

কয়েকটি ই-কমার্স সাইট হচ্ছে amazon.com, alibaba.com, olx.com, bikroy.com, ekhanei.com, rokomari.com ইত্যাদি।

 

বাংলাদেশে ই-কমার্স

২০১১-১২ সাল থেকে বাংলাদেশেও আস্তে আস্তে ই-কমার্সের প্রসার ঘটছে। বর্তমানে বই থেকে শুরু করে জামাকাপড়, খাবার, শৌখিন সামগ্রী ইত্যাদি ই-কমার্সের মাধ্যমে বিকিকিনি হচ্ছে। প্রচলিত বাণিজ্যের মতো ই-কমার্সেও দুই ধরণের প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করা যায়। এক ধরণের প্রতিষ্ঠান কেবল নিজেদের পণ্য বিক্রয় করে থাকে। আবার কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিক্রয় করে। বাংলাদেশের বড় বড় ই-কমার্স ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে bikroy.com, rokomari.com ইত্যাদি।

bikroy.com:

Bikroy.com হলো এমন একটি ওয়েবসাইট, যেখানে প্রায় সবকিছুই বেচাকেনা করা হয়। সাধারণত সবচেয়ে ভালো ডিল হয়ে থাকে একই শহরের বা নিজের এলাকার লোকজনের সাথে, তাই Bikroy.com-এ স্থানীয়ভাবে বেচাকেনা করা সহজ। ব্যবহারকারীকে মূলত যা করতে হবে তা হলো, এলাকা নির্বাচন করা। Bikroy.com-এ কোনো শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা যায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এখানে  বিনামূল্যে অ্যাকাউন্ট সাইন আপ করা যায়। এদের শ্লোগান ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস’।

 

rokomari.com:

রকমারি ডট কম হচ্ছে বাংলাদেশে অন্যতম জনপ্রিয় পণ্য কেনার বা ই-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান, এটি ২০১২ সালের ১৭-ই জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। অন্যরকম গ্রুপ নিয়ন্ত্রণাধীন এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান প্রধান নির্বাহী হচ্ছেন বাংলাদেশী তরুণ উদ্যোক্তা মাহমুদুল হাসান সোহাগ। শুরুতে বই শুধু মাত্র বই কিনতে পাওয়া গেলেও বর্তমানে এর সাহায্যে ক্রীড়া সামগ্রী, গান সহ বিভিন্ন পণ্যও কিনতে পাওয়া যায়। ওয়েব সার্ভিসের পাশাপাশি মোবাইলের মাধ্যমেও এখানে পণ্য অর্ডার করা হয়।

 

 

বিশ্ববিখ্যাত ই-কমার্স সাইট

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দুটি ই-কমার্স সাইট হচ্ছে অ্যামাজন ডট কম এবং আলিবাবা ডট কম।

অ্যামাজন একটি আমেরিকান ই-কমার্স ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। এর প্রধান অফিস সিয়াটল, ওয়াশিংটনে অবস্থিত। এরা প্রথমে অনলাইন বুকস্টোর হিসেবে ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে এদের ব্যবসা বহুমুখী। জেফ বিজস এর প্রতিষ্ঠাতা।

আলিবাবা ডট কম একটি চীনভিত্তিক দ্রুতবর্ধনশীল ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। এর প্রধান হাংঝো, চীনে অবস্থিত। জ্যাক মা ১৯৯৯ সালে এই সাইটটি প্রতিষ্ঠা করেন। এদের শ্লোগান ‘Global Trade Starts Here’।

 

মোবাইল ফোন কি এবং এর আবিষ্কার

মোবাইল ফোন, সেলুলার ফোন বা হ্যান্ড ফোন হচ্ছে তারবিহীন টেলিফোন বিশেষ। মোবাইল অর্থ “ভ্রাম্যমান” বা "স্থানান্তরযোগ্য"। এই ফোন সহজে যেকোন স্থানে বহন করা এবং ব্যবহার করা যায় বলে মোবাইল ফোন নামকরণ করা হয়েছে। মোবাইল ফোন এমন একটি ছোট আকারের ইলেকট্রনিক ডিভাইস যার মধ্যে শব্দ বা তথ্য গ্রহণ ও প্রেরণ করার জন্যে ইনপুট এবং আউটপুট ইউনিট থাকে। এটি ষড়ভূজ আকৃতির ক্ষেত্র বা এক-একটি সেল নিয়ে কাজ করে বলে এটি "সেলফোন" নামেও পরিচিত। মোবাইল ফোন বেতার তরঙ্গের  মাধ্যমে যোগাযোগ করে বলে অনেক বড় ভৌগোলিক এলাকায় এটি নিরবিচ্ছিন্নভাবে সংযোগ দিতে পারে। শুধু কথা বলাই নয়, আধুনিক মোবাইল ফোন দিয়ে আরো অনেক সেবা গ্রহণ করা যায়। এর উদাহরণ হচ্ছে খুদে বার্তা- এসএমএস বা টেক্সট মেসেজ সেবা, এমএমএস বা মাল্টিমিডিয়া মেসেজ সেবা, ই-মেইল সেবা, ইন্টারনেট সেবা, অবলোহিত আলো বা ইনফ্রা-রেড, ব্লু-টুথ সেবা, ক্যামেরা, গেমিং, ব্যবসায়িক বা অর্থনৈতিক ব্যবহারিক সফটওয়্যার ইত্যাদি। যেসব মোবাইল ফোন এইসব সেবা এবং কম্পিউটারের সাধারণ কিছু সুবিধা প্রদান করে, তাদেরকে স্মার্টফোন নামে ডাকা হয়।

মোটোরোলা কোম্পানিতে কর্মরত ডঃ মার্টিন কুপার এবং জন ফ্রান্সিস মিচেলকে প্রথম মোবাইল ফোনের উদ্ভাবকের মর্যাদা দেয়া হয়ে থাকে। তাঁরা ১৯৭৩ সালের এপ্রিলে প্রথম সফলভাবে একটি প্রায় ১  কেজি (২।২ পাউন্ড) ওজনের হাতে ধরা ফোনের মাধ্যমে কল করতে সক্ষম হন।

মোবাইল ফোনের প্রথম বাণিজ্যিক সংস্করণ বাজারে আসে ১৯৮৩ সালে, ফোনটির নাম ছিল মোটোরোলা ডায়না টিএসি ৮০০০এক্স (DynaTAC 8000x)। ১৯৯০ সাল থেকে ২০১১ সালের মধ্যে পৃথিবীব্যাপী মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২.৪ মিলিয়ন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬ বিলিয়নের বেশী হয়ে গেছে। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮৭% মোবাইল ফোন যোগাযোগের আওতায় এসেছে।

মোবাইল ফোনের গঠন

মোবাইল ফোনের মূল তিনটি অংশ রয়েছে-

১. কন্ট্রোল ইউনিট

২. ট্রান্সিভার

৩. এন্ট্রেনা সিস্টেম

এই তিনটি অংশ ছাড়াও মোবাইল ফোনের আরও অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যদিও মোবাইল ফোন নির্মাতারা তাদের ফোনকে বিশেষায়িত করার জন্য অনেক আকর্ষনীয় বৈশিষ্ট্য যোগ করছে প্রতিনিয়ত, তবুও সকল মোবাইল ফোনেরই কয়েকটি প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা এদের অপরিহার্য অঙ্গ। এগুলো হচ্ছে -

  • তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারী - ফোনের শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।
  • কোন ইনপুট পদ্ধতি যার সাহায্যে ফোন ব্যবহারকারীর সাথে ফোনের মিথস্ক্রিয়া বা দ্বি-পাক্ষিক যোগাযোগ সম্ভব হয়। সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত ইনপুট পদ্ধতি হচ্ছে কি-প্যাড তবে ইদানীং টাচ স্ক্রীন তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
  • সাধারন মোবাইল ফোন সেবা যার দ্বারা ব্যবহারকারী কথা বলতে বা খুদে বার্তা পাঠাতে পারেন।
  • জিএসএম ফোনগুলোয় সিম কার্ড থাকে। কিছু কিছু সিডিএমএ ফোনে রিম কার্ড থাকে।
  • প্রতিটি স্বতন্ত্র ফোনের জন্য একটি করে স্বতন্ত্র আইএমইআই (IMEI) নাম্বার যার সাহায্যে ওই ফোনটিকে সনাক্ত করা যায়।

মোবাইল ফোনের বিভিন্ন প্রজন্ম

শুরু থেকে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত মোবাইল প্রযুক্তিকে চারটি প্রজন্মে ভাগ করা হয়। যথাঃ

ক. প্রথম প্রজন্মঃ

১৯৮৩ সালে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম প্রজন্মের মোবাইল ফোনের যাত্রা শুরু হয়। এই প্রজন্মে মূলত অ্যানালগ মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হতো। প্রথম প্রজন্মের মোবাইল ফোনের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য রয়েছে-

১. রেডিও সিগন্যাল হিসেবে অ্যানালগ সিস্টেম ব্যবহৃত হয়।

২. সেমিকন্ডাক্টর এবং মাইক্রোপ্রসেসর প্রযুক্তির ব্যবহার।

৩. সেল সিগন্যাল এনকোডিং পদ্ধতি হলো FDMA.

৪. মোবাইল টেলিফোনি স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে মোবাইল রেডিও টেলিফোন এর ব্যবহার।

৫. একই এলাকায় অন্য মোবাইল ট্রান্সমিটারের দ্বারা সৃষ্ট রেডিও ইন্টারফারেন্স নেই।

উদাহরণঃ Advance Mobile Phone System (AMPS), Nordic Mobile Telephone (NMT), Total Access Communication System (TACS) ইত্যাদি।

 

খ. দ্বিতীয় প্রজন্মঃ

দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোনের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯০ সালে ইউরোপে জিএসএম প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে। দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল সিস্টেমের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য রয়েছে-

১. ওয়্যারলেস প্রযুক্তির ব্যবহার।

২. ভয়েসকে নয়েজ মুক্ত করা হয়।

৩. রেডিও সিগন্যাল হিসেবে ডিজিটাল সিস্টেমের প্রবর্তন

৪. টেক্সট মেসেজের প্রচলন শুরু হয়।

৫. সেল সিগন্যাল এনকোডিং পদ্ধতি হলো FDMA, TDMA এবং CDMA

৬. সর্বপ্রথম প্রিপেইড পদ্ধতি চালু হয়।

৭. মোবাইল ডেটা পরিচালনার জন্য কোর সুইচ নেটওয়ার্ক পদ্ধতির ব্যবহার।

উদাহরণঃ Code Division Multiple Access (CDMA), Time Division Multiple Access (TDMA), Frequency Division Multiple Access (FDMA), Global System for Mobil Communication (GSM) ইত্যাদি।

 

গ. তৃতীয় প্রজন্মঃ

তৃতীয় প্রজন্মের যাত্রা শুরু হয় ২০০১ সালে W-CDMA প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে। তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল সিস্টেমের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য রয়েছে-

১. আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা চালু হয়।

২. GSM, UMTS, CDMA 2000, EDGE প্রযুক্তির সমন্বয় ও সফল ব্যবহার

৩. উচ্চ স্পেকট্রাম দক্ষতা।

৪. ভিডিও কলের সুবিধা।

৫. ডেটা ট্রান্সমিশনে প্যাকেট সুইচিং প্রযুক্তির ব্যবহার।

৬. ইউএসবি মডেম সংযোগের সুবিধা।

৭. ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুবিধা।

৮. সিগন্যাল চারদিকে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার ব্যবস্থা।

 

ঘ. চতুর্থ প্রজন্মঃ

সর্বাধুনিক মোবাইল ফোন প্রযুক্তি হচ্ছে চতুর্থ প্রজন্ম প্রযুক্তি। এই ২০০৯ সালে চালু হয়। এর বৈশিষ্ট্য –

১. 4G এর গতি 3G এর চেয়ে ৫০ গুণ বেশী।

২. প্রায় ১০০ Mbps গতিতে ডেটা ট্রান্সফার।

৩. ত্রিমাত্রিক ছবি প্রদর্শনের ব্যবস্থা।

৪. টেলিভিশনে অপেক্ষাকৃত উন্নত মানের ছবি এবং ভিডিও লিঙ্ক প্রদান করবে।

৫. উন্নত মানের এন্টেনা সিস্টেমের ব্যবহার।

৬. সেলুলার ওয়্যারলেস স্ট্যান্ডার্ডের ব্যবহার।

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি

একাধিক কম্পিউটারকে পরস্পর সংযুক্ত করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম তৈরি করা হয়। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে নেটওয়ার্কভুক্ত সকলে কম্পিউটারের সাহায্যে বিভিন্ন কিছু শেয়ার করবে এবং একসাথে  কাজ করতে পারবে। এর মূল উদ্দেশ্য কম্পিউটারের মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগ। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাথে সাথে যোগাযোগের মাত্রা ও ধরনেও পরিবর্তন আসে। বর্তমান সময়ে ফেসবুকের সাহায্যে সামাজিক যোগাযোগ, স্কাইপির মাধ্যমে সরাসরি ভিডিও যোগাযোগ উল্লেখযোগ্য। আবার রিসোর্স শেয়ারিং এর জন্যও কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

কম্পিউটার নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ

ভৌগোলিক অবস্থানের উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয়-

১. পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (PAN)

২. লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN)

৩. মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (MAN)

৪. ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (WAN)

 

পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (PAN): এক মিটারের মধ্যে অবস্থিত একাধিক কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, ডিজিটাল ক্যামেরা ইত্যাদির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করার জন্যে যে নেটওয়ার্ক সিস্টেম ব্যবহার করা হয় তাকে পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বলে। এ ধরণের নেটওয়ার্ক বিভিন্ন অফিসে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করে দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান করা যায়, হার্ডওয়্যার রিসোর্স ব্যবহার করা যায়। MIT এর মিডিয়া ল্যাব এর থমাস জিস্যার ম্যান এবং তার সহযোগী গবেষণা করে সর্বপ্রথম PAN এর ধারণা দেন।

 

লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN): একটি বিল্ডিঙয়ের কোন একটি ফ্লোরে অবস্থিত বিভিন্ন কম্পিউটার অথবা বিল্ডিঙয়ের বিভিন্ন ফ্লোরের মধ্যে অবস্থিত কম্পিউটার সমূহের মধ্যে যে নেটওয়ার্ক তৈরি হয় তাকে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বলে। LAN এর ব্যাপ্তি নিকটবর্তী বিল্ডিং সমূহে অবস্থিত কম্পিউটার সমূহের মধ্যেও হতে পারে। এই নেটওয়ার্ক স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি সহজসাধ্য ও ব্যয়বহুল নয়।

নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এবং সার্ভিস প্রদানের ধরণের উপর ভিত্তি করে একে দু’ভাগে ভাগ করা যায়- ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক ও পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক।

 

মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (MAN): কোন নির্দিষ্ট শহরের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে অবস্থিত কম্পিউটার সমূহকে নেটওয়ার্কের আওতায় আনার জন্যে টেলিফোন লাইন বা High Speed Remote এর সাহায্যে MAN পদ্ধতিতে কম্পিউটার সমূহ নেটওয়ার্কভুক্ত করা হয়। যেমনঃ একটি শহরে কোন একটি অফিসের কয়েকটি শাখা অফিস আছে। উক্ত শাখাসমূহে স্থাপিত কম্পিউটার সমূহের নেটওয়ার্ক এর আওতাভুক্ত করার জন্য MAN পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সাধারণত কোন শহর, শিল্প এলাকা অথবা কোন নির্দিষ্ট এলাকায় নেটওয়ার্কিং প্রক্রিয়া স্থাপন করার জন্য MAN পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

 

ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (WAN): সবচেয়ে বড় এবং বিস্তৃত নেটওয়ার্ক হচ্ছে ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক। এটি একই দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে স্থাপিত কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা হতে পারে অথবা ভিন্ন ভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন শহরের মধ্যে স্থাপিত কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা হতে পারে। সাধারণত বিভিন্ন শহরে অবস্থিত LAN বা MAN কে এই নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত করা হয়। WAN এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে ইন্টারনেট।

 

 

কম্পিউটার টপোলজি

কম্পিউটার নেটওয়ার্কে কম্পিউটার সমূহ একটি অন্যটির সাথে সংযুক্ত থাকার পদ্ধতিকে টপোলজি (Topology) বলে। নেটওয়ার্কে কম্পিউটারগুলো কিভাবে সংযুক্ত আছে, ক্যাবল কিভাবে একটি আরেকটির সাথে যুক্ত আছে, এটিই টপোলজির মূল বিষয়। নিম্নলিখিত টপোলজি অনুযায়ী নেটওয়ার্কভুক্ত কম্পিউটার সমূহকে সংযুক্ত করা যায়ঃ

১. বাস টপোলজি (Bus Topology): যে টপোলজিতে একটি মাত্র মাধ্যমের সাথে সব কয়েকটি ওয়ার্ক স্টেশন বা কম্পিউটার বা নোড সংযুক্ত থাকে তাকে বাস টপোলজি বলে। মাধ্যম বা সংযোগ লাইনকে সাধারণত বাস বলা হয়। বাস নেটওয়ার্কের কোন কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেলে অন্য কম্পিউটারের কাজ করতে কোন অসুবিধা হয়না। নেটওয়ার্কের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সংযুক্ত করতে এই টপোলজিতে সবচেয়ে কম ক্যাবল ব্যবহৃত হয়, ফলে এতে খরচেও সাশ্রয় হয়। নেটওয়ার্কের বাস সহজে সম্প্রসারণ করা যায় এবং এতে আরও অধিক সংখ্যক কম্পিউটারকে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়।

২. স্টার টপোলজি (Star Topology): স্টার টপোলজি নেটওয়ার্কে সবগুলো কম্পিউটার একটি কেন্দ্রীয় কানেক্টিং ডিভাইস থেকে সংযোগ দেওয়া হয়। কানেক্টিং ডিভাইস হিসেবে হাব অথবা সুইচ ব্যবহার করা হয় এবং হাব বা সুইচ এর মাধ্যমে একে অন্যের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে ও ডেটা আদানপ্রদান করে।

স্টার টপোলজিতে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা সহজ কিন্তু কানেক্টিং ডিভাইস হাব বা সুইচ খারাপ হয়ে গেলে সমস্ত নেটওয়ার্কটি অচল হয়ে পড়ে।। এ টপোলজিতে বেশী ক্যাবল ব্যবহৃত হয় বলে এটি একটি ব্যয়বহুল পদ্ধতি।

৩. রিং টপোলজি (Ring Topology): রিং টপোলজিতে নেটওয়ার্কভুক্ত সবগুলো কম্পিউটারকে ক্যাবলের মাধ্যমে এমনভাবে সংযুক্ত করা হয় যে একটি রিং বা লুপের সৃষ্টি হয়। এই টপোলজিতে কোন শুরু বা শেষ প্রান্তসীমা থাকে না। রিং নেটওয়ার্কে কম্পিউটারগুলো বৃত্তাকার পথে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। নেটওয়ার্কের কোন কম্পিউটার সংকেত পাঠালে তা পরবর্তী নোডের দিকে প্রবাহিত হয়। এভাবে তথ্যের একমুখী প্রবাহ পুরো বৃত্তাকার পথ ঘুরে আসে এবং বৃত্তাকার পথের বিভিন্ন নোডে সংযুক্ত কম্পিউটার প্রয়োজনে উক্ত সংকেত গ্রহণ করতে পারে। নেটওয়ার্কে অবস্থিত প্রতিটি কম্পিউটার ডেটা ট্রান্সমিশনের জন্যে সমান অধিকার পায়। নেটওয়ার্কে কোন সার্ভার কম্পিউটারের প্রয়োজন হয়না। একটি মাত্র কম্পিউটারে ত্রুটি হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে।

৪. ট্রি টপোলজি (Tree Topology): স্টার টপোলজির সম্প্রসারিত রূপ হচ্ছে ট্রি টপোলজি। এই টপোলজিতে একাধিক কানেক্টিং ডিভাইস হিসেবে হাব বা সুইচ ব্যবহার করে নেটওয়ার্কভুক্ত সকল কম্পিউটারকে একটি বিশেষ স্থানে সংযুক্ত করা হয়। একে বলা হয় সার্ভার ভা রুট। ট্রি সংগঠনে এক বা একাধিক স্তরে নেটওয়ার্কভুক্ত কম্পিউটারগুলো রুট এর সাথে যুক্ত থাকে।

নতুন স্তর তৈরি করে ট্রি টপোলজির নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ বেশ সুবিধাজনক। অফিস ব্যবস্থাপনার কাজে এ নেটওয়ার্কের গঠন বেশ উপযোগী। রুট বা সার্ভার কম্পিউটারে কোন ত্রুটি দেখা দিলে ট্রি নেটওয়ার্ক অচল হয়ে যায়। অন্যান্য টপোলজির তুলনায় অপেক্ষাকৃত জটিল।

৫. মেস টপোলজি (Mesh Topology): মেস টপোলজির ক্ষেত্রে নেটওয়ার্কের অধীনস্থ প্রত্যেকটি কম্পিউটার অন্য সব কম্পিউটারের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। তাই প্রতিটি ওয়ার্কস্টেশন সরাসরি  যেকোনো ওয়ার্কস্টেশনের সাথে ডেটা আদানপ্রদান করতে পারে। এই টপোলজিতে নেটওয়ার্ক ইন্সটলেশন ও কনফিগারেশন বেশ জটিল। সংযোগ লাইনগুলোর দৈর্ঘ্য বেশী হওয়াই খরচ বেশী হয়।

৬. হাইব্রিড টপোলজি (Hybrid Topology): বিভিন্ন টপোলজি অর্থাৎ স্টার, রিং, বাস ইত্যাদি নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে যে নেটওয়ার্ক গঠিত হয় তাকে হাইব্রিড টপোলজি বলে। ইন্টারনেট একটি হাইব্রিড নেটওয়ার্ক, কেননা এতে প্রায় সব ধরণের নেটওয়ার্কই সংযুক্ত আছে। হাইব্রিড নেটওয়ার্কের সুবিধা ও অসুবিধা নির্ভর করছে ঐ নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত টপোলজিগুলোর উপর।

ওয়াইফাই ও ওয়াইম্যাক্স কি

ওয়াইফাইঃ

WiFi হচ্ছে একটি তারবিহীন ল্যান স্ট্যান্ডার্ড যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বহনযোগ্য কম্পিউটারের যন্ত্রপাতির সাথে সহজে ইন্টারনেট সংযুক্ত করা। Wireless Fidelity শব্দদুটি থেকে WiFi এর উৎপত্তি। এ পদ্ধতিতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সমিটার ব্যবহৃত হয় যা সেকেন্ডে ২.৫ বার হপ সাধিত হয়। পিসি, ভিডিও গেমস, স্মার্ট ফোন ইত্যাদির সাথে WiFi যুক্ত করা যায়। বর্তমানে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন মানুষ WiFi ব্যবহার করছে।

 

ওয়াইম্যাক্সঃ

WiMax একটি বড় এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগের জন্যে ব্যবহৃত এক ধরণের ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন ব্যবস্থা। ওয়্যারলেস টেকনোলোজির ৪র্থ প্রজন্মের একটি অংশ হচ্ছে ওয়াইম্যাক্স। LAN এর ক্ষেত্রে ৩০ মিটার এবং MAN এর ক্ষেত্রে ৫০ কিলোমিটার ব্যাপী এই সংযোগ বিস্তৃত থাকে।

মোবাইল ব্যাংকিং

মোবাইল ফোন অপারেটরদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের নামই হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং। শাখা বা অফিসবিহীন এ ব্যাংকিং জনসংখ্যাবহুল বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ২০১০ সালে ডাচ বাংলা ব্যাংক এ কার্যক্রম শুরু করলেও এখন অনেক ব্যাংকই এ ধারায় প্রবেশ করছে।

এখন পর্যন্ত যে সেবাসমূহ মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানিগুলো দিচ্ছে তা নিম্নরূপ :

১. এক স্থান থেকে অন্য স্থানে টাকা প্রেরণ।

২. মোবাইল ফোন রিচার্জ।

৩. মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টে জমা টাকা এজেন্ট থেকে উত্তোলন।

৪. মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টে জমা টাকা ব্যাংকের এটিএম থেকে উত্তোলন।

৫. মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টের টাকা ব্যাংক একাউন্টে এবং ব্যাংক একাউন্টের টাকা মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টে স্থানান্তর।

৬. নির্ধারিত দোকানপাট ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ সুবিধা।

৭. দেশের বাইরে বসবাসরত আপনজন কর্তৃক প্রেরিত অর্থ (র‌্যামিটেন্স) গ্রহণ।

এছাড়া একাউন্টধারী কর্তৃক নিজ হিসাবের স্থিতি, মিনি স্টেটম্যান্ট দেখার সুবিধাও রয়েছে।

দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ থেকে লাইসেন্স নিয়ে তফসীলী ব্যাংকগুলো এ ব্যবসা করে থাকে। এজন্য তাদেরকে মোবাইল কোম্পানিগুলোর সাথেও চুক্তিতে আবদ্ধ হতে হয়। মোবাইল অপারেটরদের দেশব্যাপী বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নিজস্ব সফটওয়্যারের মাধ্যমে শাখাবিহীন এ মিনি ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে ব্যাংকগুলো।

অনেকগুলো পক্ষের সংশ্লিষ্টতায় এ কারবার পরিচালিত হয়ে থাকে। যেমন,

ক) মূল কোম্পানি। যথাঃ বিকাশ, এমক্যাশ ইত্যাদি।

খ) মোবাইল কোম্পানিগুলো।

গ) ডিস্ট্রিবিউটর।

ঘ) এজেন্ট।

ঙ) গ্রাহক তথা একাউন্ট হোল্ডার। এছাড়াও রয়েছে,

চ) বিভিন্ন পণ্য বিক্রেতা ও সেবা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান যাদেরকে মার্চেন্ট বলা হয়।

ছ) প্রবাসী অর্থ তথা রেমিটেন্স গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সাথে ভিন্ন চুক্তি।

 

ভি-স্যাট

ভি-স্যাট (VSAT= Very Small Aperture Service) হলো খুব ছোট আকারের সংযোগযন্ত্র যা দ্বিমুখী ভূ-উপগ্রহকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এর থালা আকৃতির অ্যান্টেনার ব্যাস ৩ মিটারের কম হয়, যেখানে অন্যান্য ধরনের উপগ্রহ কেন্দ্রের ব্যাস হয় প্রায় ১০ মিটারের মত। ভিস্যাট সবচেয়ে বেশি ব্যাবহার হয় বিক্রয়কেন্দ্রে ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত আদানপ্রদানের জন্য। শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রতেই ১০০,০০০ এর-ও বেশি গ্যাস স্টেশন ভিস্যাট ব্যবহার করে।

১৯৮৫ সালে শ্লুমবার্গার (Schlumberger) তৈল গবেষণা কেন্দ্র ও হিউস অ্যারোস্পেস (Hughes Aerospace) একসাথে পৃথিবীর প্রথম ভিস্যাট তৈরি করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল তৈলকূপ ও খনন ক্ষেত্রগুলোতে মনুষ্যবহনযোগ্য যোগাযোগ যন্ত্র তৈরি করা। এখনও বিভিন্ন খনন কূপ থেকে তাৎক্ষনিক হিসাব নিকাশের জন্য তথ্য পাঠাতে ভিস্যাট ব্যাবহৃত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় গাড়ি ব্যাবসায়ীরা ক্রয়-বিক্রয়ের হিসাব, অন্তর্যোগাযোগ, খুচরো যন্ত্রাংশের চাহিদা, সেবা তথ্য এবং দূর প্রশিক্ষনের জন্য গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যোগাযোগ করতে ভিস্যাট ব্যাবহার করে। ফোর্ড ও স্থানীয় ব্যাবসায়ীদের ব্যবহৃত ফোর্ডস্টার নেটওয়ার্ক এমন একটি সংযোগের উদাহারন।

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র অবস্থিত ওয়াল-মার্টের দোকানগুলো থেকে ওয়াল-মার্টের ব্যবসায়িক প্রধান কেন্দ্রে পরিসংখ্যাপত্র (inventory) ও বিক্রয়ের হিসাব পাঠাতে ভি-স্যাট প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। ভি-স্যাট প্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ডিরেক্টওয়ে (DirecWay) এবং স্টারব্যান্ড (StarBand), ইউরোপে Amariska, Bluestream এবং Technologie Satelitarne ইন্টারনেট সংযোগ সেবা দিয়ে থাকে। এই প্রযুক্তি পৃথিবীর সর্বত্র ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দিতে ব্যবহার হয়ে থাকে যেখানে এডিএসএল অথবা কেবল (Cable) সংযোগ দেয়া সম্ভব নয়, বিশেষ করে দুর্গম ও গ্রাম এলাকায়।

 

টেলিকনফারেন্স, ভিডিও কনফারেন্স এবং টেলিমেডিসিন

টেলিকনফারেন্সঃ

টেলিযোগাযোগ সিস্টেমের মাধ্যমে বিভিন্ন দুরত্বে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের নিয়ে কোন সভা বা সেমিনার অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়াকে বলা হয় টেলিকনফারেন্সিং। এ ব্যবস্থায় সভায় অংশগ্রহণকারীরা কি-বোর্ডের মাধ্যমে তাদের বক্তব্য কেন্দ্রীয় কম্পিউটারে পাঠায়। বিশ্বের যে কোন জায়গা যেখানে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে, সেখান থেকে টেলিকনফারেন্সিং করা সম্ভব।

 

ভিডিও কনফারেন্সঃ

টেলিকমিউনিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুই বা ততোধিক ভৌগোলিক অবস্থানে অডিও ও ভিডিও এর যুগপৎ উভমুখী স্থানান্তর প্রক্রিয়াকে ভিডিও কনফারেন্সিং বলে। Skype বা ইয়াহু মেসেঞ্জার ব্যবহার করে ভিডিও কনফারেন্সিং করা যায়।

 

টেলিমেডিসিনঃ

ইন্টারনেট ব্যবহার করে দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, রোগ নির্ণয় কেন্দ্র ইত্যাদির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়াকে বলা হয় টেলিমেডিসিন। টেলিমেডিসিন পদ্ধতি ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে স্বাস্থ্যসেবা তথা ‘দ্বিতীয় মতামত’ গ্রহণ করা সম্ভব। ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন ও পদ্ধতি বাছাইয়ের ওপর নির্ভর করে টেলিমেডিসিন সূচনা করতে পারে ই-মেইলের ব্যবহার, স্টিল ও ভিডিও ফটোগ্রাফির ব্যবহার এবং একই সময় পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে টেলিকনফারেন্সিং এর সুবিধা। বর্তমানে স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের দ্রত উন্নতি ঘটছে। নিত্য নতুন প্রযুক্তি এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীর পেশাগত উন্নয়নে, বিশেষত বাংলাদেশের মত দেশের ক্ষেত্রে, যেখানে সুযোগ- সুবিধার প্রবেশ কম এবং বিশেষ উপকরণও সীমিত সেখানে টেলিমেডিসিন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

স্মার্টফোন, অ্যান্ড্রয়েড এবং আইফোন

স্মার্টফোন

স্মার্টফোন হলো বিশেষ ধরনের মোবাইল ফোন যা মোবাইল কম্পিউটিং প্লাটফর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে সর্বাধিক প্রচলিত স্মার্টফোনসমূহ হলো অ্যাপলের আইওএস, গুগলের অ্যান্ড্রয়েড, মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ, নকিয়ার সিম্বিয়ান এবং রিসার্চ ইন মোশনের ব্ল্যাকবেরি। পৃথিবীর প্রথম স্মার্টফোন হল আইবিএম সাইমন।

 

অ্যান্ড্রয়েড

অ্যান্ড্রয়েড একটি ওপেন সোর্স মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম যা বিভিন্ন ওপেন সোর্স প্রজেক্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। একজন অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপার এই প্ল্যাটফর্মের ওপর তৈরি ফোনের সোর্সকোডে প্রবেশাধিকার রাখে। সহজ কথায় একজন ডেভেলপার চাইলে ইন্টারফেস নিয়ন্ত্রণ করে এবং বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ করে প্ল্যাটফর্মের ভালোমন্দ নির্ধারণে সাহায্য করতে পারে। গুগলের অ্যান্ড্রয়েড ওপেন সোর্স হিসেবে থাকায় বড় বড় কোম্পানিসমূহ (ওপেন হ্যান্ডসেট অ্যালায়েন্স) তাদের হার্ডওয়্যার ডিভাইসে আন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে শুরু করেছে। ফলে গুগলের আন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ও জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মের জন্য অনেক সুবিধা রয়েছে

১. প্ল্যাটফর্মের জন্য ডেভেলপমেন্ট টুল আছে যা বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায় এবং গুগল সামান্য ফি নেয় আন্ড্রয়েডের বাজারে অ্যাপ্লিকেশন বিতরণের জন্য।

২. আন্ড্রয়েড একটি ওপেন সোর্স প্লাটফর্ম যা লিনাক্স কার্নেল এবং একাধিক ওপেন সোর্স লাইব্রেরীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপসগুলো আন্ড্রয়েড ডিভাইসে চালানো যাবে। ডেভেলপাররা বিনামূল্যে অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্ম প্রসারিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

৩. কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ডেভেলপাররা বিনামূল্যে বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলের মাধ্যমে তাদের অ্যাপ্লিকেশন গুগলের অ্যান্ড্রয়েড বাজারে ছাড়তে পারে।

৪. অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা চালিত হার্ডওয়্যার ডিভাইসের (বিভিন্ন ফোন এবং ট্যাবলেট কম্পিউটার) সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। উইন্ডোজ, ম্যাক বা লিনাক্স ব্যবহার করে এই প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন করা যায়।

৫. বর্তমানে প্রচুর টেলিকম কোম্পানি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর মোবাইল ফোন তৈরিতে আগ্রহী হয়েছে।

 

আইফোন

আইফোন হচ্ছে অ্যাপল ইনকর্পোরেটেড দ্বারা নির্মিত একটি আধুনিক ইন্টারনেট ও মাল্টিমিডিয়া সংযুক্ত স্মার্টফোন। অ্যাপলের সাবেক সিইও স্টিভ জবস প্রথম আইফোন অবমুক্ত করেন ৯ জানুয়ারি ২০০৭ তারিখে।  প্রথম আইফোনের বাজারজাতকরণ শুরু হয় ২৯ জুন ২০০৭ তারিখে। আইফোন ৪এস অবমুক্তের ঠিক দুদিন আগে আইফোন স্মার্টফোনের জন্য অপারেটিং সিষ্টেম আইওএস ৫.০ অবমুক্ত করে।

আইফোনকে ভিডিও ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি ক্যামেরা ফোন, বহনযোগ্য মিডিয়া প্লেয়ার, ইন্টারনেট মাধ্যম, ভিজুয়্যাল ভয়েস মেইল ক্লাইন্টসহ ওয়াইফাই ও থ্রিজি কানেকটর হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আইফোনের পর্দাটি মাল্টি টাচস্ক্রীন প্রকৃতির। যেখানে একটি ভার্চুয়াল কিবোর্ডের সুবিধা রয়েছে। অ্যাপলিকেশন সফটওয়্যারগুলো আইফোনের জন্য অ্যাপলের বিশেষ অ্যাপ স্টোর থেকে ডাউনলোডের সুবিধা আছে। এইসকল অ্যাপলিকেশনের মাধ্যমে আইফোনকে খেলাধুলা, জিপিএস নেভিগেশন, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র দেখার কাজে সহজেই ব্যবহার করা যায়।

 

iPod

iPod অ্যাপল ইনকর্পোরেটেড কর্তৃক বাজারজাতকৃত এক ধরণের বহনযোগ্য মিডিয়া প্লেয়ার।

 

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (World Wide Web বা www) হল ইন্টারনেট দিয়ে দর্শনযোগ্য আন্তঃসংযোগকৃত তথ্যাদির একটি ভাণ্ডার। একটি ওয়েব ব্রাউজারের সহায়তা নিয়ে একজন দর্শক ওয়েবপাতা বা ওয়েবপেজ দেখতে পারে এবং সংযোগ বা হাইপারলিঙ্ক ব্যবহার করে নির্দেশনা গ্রহণ ও প্রদান করতে পারে।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যুক্ত হাইপার টেক্সট ডকুমেন্টগুলো নিয়ে কাজ করার প্রক্রিয়াই ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব নামে পরিচিত। হাইপার লিংকের সাহায্যে ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে ওয়েব পেইজ দেখা যায়, যা টেক্সট, চিত্র, ভিডিও ও অন্যান্য মাল্টিমিডিয়া সমৃদ্ধ হতে পারে। ১৯৮৯ সালের মার্চে ইংরেজ পদার্থবিদ টিম বার্নাস লি, বর্তমানে যিনি ওয়ার্ল্ড ওয়েব কনসোর্টিয়ামের ডাইরেক্টর, পূর্ববর্তী হাইপারটেক্সট সিস্টেম হতে ধারণা নিয়ে, যে প্রস্তাবনা লেখেন তা হতেই উৎপত্তি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের। পরবর্তীতে এ কাজে লি'র সাথে যোগ দেন বেলজিয়ান বিজ্ঞানী রবার্ট কাইলিয়াউ। এসময় তারা উভয়েই সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সার্নে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯০ এর ডিসেম্বরে তাদের প্রকাশিত এক প্রস্তাবনায় তারা উল্লেখ করেন,‍“ হাইপারটেক্সট্-কে লিংক ও ওয়েব হতে নানবিধ তথ্যের সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে একজন ব্যবহারকারি তার মর্জিমাফিক ওয়েব পরিভ্রমণ করতে পারবে।”

ওয়েব পেজ দেখার প্রক্রিয়া সাধারণত কোন ব্রাউজারে ইউআরএল টাইপ করা বা কোন পাতা হতে হাইপারলিঙ্ক অনুসরণের মাধ্যমে শুরু হয়ে থাকে। এরপর ওয়েব ব্রাউজার যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কিছু বার্তা প্রদান শুরু করে। এর ফলশ্রুতিতে পরিশেষে পাতাটি দর্শনযোগ্য হয়ে ওঠে।

প্রথমেই ইউআরএল এর সার্ভার নামের অংশটি আইপি এ্যাড্রেস ধারণ করে। এজন্য এটি একটি বিশ্বজনীন ইন্টারনেট ডাটাবেস বা তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে যা ডোমেইন নেম সিস্টেম নামে পরিচিত। এই আইপি ঠিকানাটি ওয়েব সার্ভারে ডাটা প্যাকেট প্রেরণের জন্য জরুরী।

এরপর ব্রাউজার নির্দিষ্ট ঠিকানাটিকে একটি এইচটিটিপির আবেদন জানায় ওয়েব সার্ভারের কাছে। সাধারণ কোন ওয়েব পেজের বেলায়, পাতাটির এইচটিএমএল লেখার জন্য শুরুতে আবেদন জানানো হয়। এরপর ওয়েব ব্রাউজারটি ছবিসহ অন্যন্য প্রয়োজনীয় ফাইলের জন্য আবেদন পৌছে দেয়।

ওয়েব সার্ভার থেকে আবেদনকৃত ফাইলসমূহ পাবার পর ওয়েব ব্রাউজারটি এইচটিএমএল, সিএসএস ও অন্যান্য ওয়েব ল্যাঙ্গুয়েজ অনুযায়ী পাতাটিকে স্ক্রিনে সাজিয়ে ফেলে। অধিকাংশ ওয়েব পাতাগুলোতে নিজস্ব হাইপারলিঙ্ক থাকে যাতে সংশ্লিষ্ট অন্যন্য পাতা এবং ডাউনলোডসহ অন্যন্য প্রয়োজনীয় লক্ষ্য উল্লেখিত থাকে। এই প্রয়োজনীয় ও পরষ্পর সংযুক্ত হাইপারলিঙ্কগুলোর সমষ্টিই ওয়েব নামে পরিচিত। টিম বার্নার্স-লি সর্বপ্রথম একে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব নামে নামাঙ্কিত করেন এবং তাকেই ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর জনক বলা হয়।

 

 

ইন্টারনেট কি

আন্তর্জাল বা ইন্টারনেট হল সারা পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত, পরস্পরের সাথে সংযুক্ত অনেকগুলো কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সমষ্টি যা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এবং যেখানে আইপি বা ইন্টারনেট প্রটোকল নামের এক প্রামাণ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্যাটা আদান-প্রদান করা হয়। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে অনেকে ইন্টারনেট এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবকে সমার্থক শব্দ হিসেবে গণ্য করলেও প্রকৃতপক্ষে শব্দদ্বয় ভিন্ন বিষয় নির্দেশ করে। ইন্টারনেটের হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার পরিকাঠামো কম্পিউটারসমূহের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক তথ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করে। বিপরীতে, ওয়েব ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রদত্ত পরিসেবাগুলির একটি। এটা পরস্পরসংযুক্ত কাগজপত্র এবং অন্যান্য সম্পদ সংগ্রহের, হাইপারলিংক এবং URL-দ্বারা সংযুক্ত।

ইন্টারনেট হচ্ছে International Network এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এটা বিশেষ গেটওয়ে বা রাউটারের মাধ্যমে কম্পিউটার নেটওয়ার্কগুলো একে-অপরের সাথে সংযোগ করার মাধ্যমে গঠিত হয়। ইন্টারনেটকে প্রায়ই নেট বলা হয়ে থাকে।

১৯৬৯ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গবেষণা সংস্থা অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্ট্‌স এজেন্সি বা আরপা (ARPA) পরীক্ষামূলকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগারের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতিতে তৈরি করা এই নেটওয়ার্ক আরপানেট (ARPANET) নামে পরিচিত ছিল। ইন্টারনেট ১৯৮৯ সালে আইএসপি দ্বারা সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারে শীর্ষ দেশ চীন, দ্বিতীয় যুক্তরাষ্ট্র এবং তৃতীয় ভারত।

 

প্রোটোকল কি

যে পদ্ধতির মাধ্যমে কমিউনিকেশন সিস্টেমে কম্পিউটার এবং বিভিন্ন ডিভাইস বা ডেটা ট্রান্সমিট পদ্ধতি সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয় তাকে প্রোটোকল বলে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরণের প্রোটোকল তৈরি করেছে। যেমনঃ FTP (File Transferr Protocol), NETBUEI, AppleTalk,TCP/IP ইত্যাদি। এদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহৃত প্রোটোকল হচ্ছে TCP/IP (Transmission Control Protocol / Internet Protocol).

ইন্টারনেট সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রসমূহ

১. কম্পিউটার

ইন্টারনেট সংযুক্তির জন্য ন্যূনতম ৮০৩০৬ প্রসেসরযুক্ত কোন কম্পিউটার, ৪ মেগাবাইট র‍্যাম এবং অপারেটিং সিস্টেমসহ প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার প্রয়োজন।

২. মডেম

মডেম (মড্যুলেটর-ডিমডুলেটর) হল একটি যন্ত্র যা একটি প্রেরিত এনালগ সংকেতকে ডিজিটাল তথ্যে রূপান্তর করে এবং ডিজিটাল তথ্যকে পাঠানোর সময় এনকোড করে এনালগ সংকেত হিসেবে প্রেরণ করে। এর উদ্দেশ্য হল সহজে সংকেত পাঠানো এবং তা আবার একই রকমভাবে অন্য প্রান্তে পাওয়া। ট্রান্সমিশন বা প্ররণের অর্থে যেকোন কাজে মডেম ব্যবহার করা যায় রেডিও থেকে ডাইওড পর্যন্ত।

সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ হল ভয়েসব্যান্ড মডেম যেটা পারসোনাল কম্পিউটারের ডিজিটাল ডেটাকে ইলেট্রিকাল সিগনালে পরিনত করে টেলিফোনের ভয়েস ফ্রিকোয়েন্সি রেন্জ চ্যানেলে পাঠায়, অন্য প্রান্তে আরেকটি মডেম দ্বারা ডিজিটালে পরিনত হয়। মডেমগুলো সাধারণত ভাগ করা হয় কত পরিমান ডেটা তারা পাঠাতে পারে একক সময়ে তার উপর। সাধারণত মাপা হয় সেকেন্ড প্রতি বিট(bps) হিসেবে। এগুলো এক একক সেকেন্ডে কত পরিমান সংকেত পাঠাতে পারে তার ভিত্তিতে ভাগ করা যায়।

৩. টেলিফোন বা মোবাইল বা অন্য কোন নেটওয়ার্ক

৪. আইএসপি (ISP)

এটি হল Internet Service Provider বা ইন্টারনেট সেবাদানকারী কোন সংস্থা। সাধারণ গ্রাহককে ইন্টারনেট সংযোগ এবং এ সংক্রান্ত সকল সেবা প্রদান করাই এর কাজ।

 

ইন্টারনেট প্রটোকল অ্যাড্রেস কি

ইন্টারনেট প্রটোকল অ্যাড্রেস বা ইন্টারনেট প্রটোকল ঠিকানা ( IP address বা Internet Protocol (IP) address ) হল একটি সংখ্যাগত লেবেল যা কোন কম্পিউটার নেটওয়ার্কে যুক্ত প্রতিটি কৌশল বা ডিভাইসের জন্য নির্ধারিত যেখানে নেটওয়ার্কের নোড গুলো যোগাযোগের জন্য ইন্টারনেট প্রোটোকল ব্যবহার করে । ইন্টারনেট প্রটোকল অ্যাড্রেসের প্রধান কাজ মুলত দুটি: হোস্ট অথবা নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস সনাক্ত করা এবং অবস্থান খুজে বের করা। এই ঠিকানাটি যুক্তরাষ্ট্রের Internet Assigned Numbers Authority (IANA) নামক প্রতিষ্ঠানটি প্রদান করে থাকে। বর্তমানে ইন্টারনেট প্রোটোকল ভার্সন ৪ বা IPV4 চালু আছে। IPV4 সিস্টেমে প্রতিটি আইপি অ্যাড্রেসকে প্রকাশের জন্য মোট চারটি অকটেট (৮ বিটের বাইনারি) সংখ্যা প্রয়োজন। কাজেই সম্পূর্ণ সংখ্যা প্রকাশের জন্য ৩২ বিট প্রয়োজন। প্রতিটি অকটেট ডট (.) দ্বারা পৃথক করা হয়।

আইপি অ্যাড্রেসের প্রথম দুটি অকটেট নেটওয়ার্ক আইডি এবং পরের দুটি অকটেট হোস্ট আইডি প্রকাশ করে। বাইনারি সংখ্যা মনে রাখা অসুবিধাজনক বিধায় এর সমকক্ষ ডেসিমাল সংখ্যা দিয়েও আইপি অ্যাড্রেস লিখা হয়। 10101100.00010000.11111110.00000001 আইপি অ্যাড্রেসের ডেসিমাল সমকক্ষ হলো 172.16.254.1.

 

এইচটিএমএল কি

ওয়েব পেইজ ডিজাইন কোডিং এর জন্য খুবই জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা হচ্ছে HTML. HTML শব্দের পূর্ণ রূপটি হল Hypertext Markup Language. HTML ডকুমেন্ট ফাইল হচ্ছে সাধারণ টেক্সট ফাইলের মতো। এতে কোন প্রকার অডিও, স্থির চিত্র, ভিডিও ইত্যাদি থাকে না। তবে টেক্সট ফাইলের সাথে অডিও, ভিডিও সংযুক্ত করা যায়।

১৯৮০ সালে টিম বার্নারস লি HTML রচনা করেন। তখন শুধুমাত্র একটি পাতার সাথে অপর একটি পাতার সংযোগ ঘটানো হতো। ১৯৮৫ সালে এই পদ্ধতির নাম ছিল SGML. পরবর্তী সময়ে এই ভাষার উন্নতির সাথে সাথে এতে নির্মিত ফাইল পড়ার উপযোগী ব্রাউজারের উন্নতি ঘটতে লাগলো বেশ দ্রুত। প্রথম দিকে Linux Text only নির্মিত হয়েছিল কানাস বিশ্ববিদ্যালয়ে। এটি তখন চালানো হতো শুধুমাত্র Linux এবং VMS অপারেটিং সিস্টেমে। ১৯৯৫ সালে মাইক্রোসফট কোম্পানি Internet Explorer বাজারজাত করে ওয়েব পেইজ ব্রাউজিং এর জন্য। ইন্টারনেটে যে প্রোটোকলের অধীনে এ সমস্ত হাইপার টেক্সট আদানপ্রদান করা হয়, তাকে http বা hypertext transfer protocol বলে।

ইউআরএল, রিলোড, কুকি, ভিওআইপি, ইন্ট্রানেট, এক্সট্রানেট কি

ইউ আর এল

URL(Uniform Resource Locator) হচ্ছে ওয়েবসাইটের একক (Unique) ঠিকানা। কোন ওয়েব পেজকে প্রদর্শন করতে ওয়েব ব্রাউজারে এর ঠিকানা নির্দিষ্ট করে দিতে হয়। পৃথিবীতে এক নামে একটি ওয়েব পেজ থাকে।

Reload/Refresh

যে সকল ওয়েব পেজের ডেটা অনবরত পরিবর্তন হয় সে সকল ওয়েব পেজ পড়ার সময় মাঝপথে কোন পরিবর্তন হয়েছে কিনা  তা জানার জন্য Reload/Refresh কমান্ড দিতে হয়।

Cookie

কোন ব্যবহারকারী ইন্টারনেট ব্যবহারকালে যখন কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করেন, তখন ব্যবহারকারীর ওয়েব ব্রাউজারে ওয়েব সাইট প্রেরিত ক্ষুদ্র তথ্যপূর্ণ কিছু টেক্সট জমা হয়। ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত ক্ষুদ্র তথ্যপূর্ণ এই টেক্সটকে Cookie বলে।

VoIP

ইন্টারনেট টেকনোলজি এবং মাল্টিমিডিয়া অ্যাপ্লিকশন ব্যবহার করে ভয়েস, ডেটা এবং ভিডিও আদান-প্রদান করার পদ্ধতিকে VoIP (Voice over Internet Protocol) বলে।

ইন্ট্রানেট

একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত ওয়েবসাইট যা কেবল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই ব্যবহার করতে পারে, তাকে ইন্ট্রানেট বলে।

এক্সট্রানেট

একটি প্রতিষ্ঠানের ইন্ট্রানেটকে যখন অন্য প্রতিষ্ঠানের ইন্ট্রানেটের সাথে যুক্ত করা হয়, তখন তাকে বলে এক্সট্রানেট।

ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন কি

ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন হলো ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বা ইন্টারনেটের দুনিয়াতে কোন তথ্য বা ছবি খুঁজে বের করার প্রযুক্তি মাধ্যম। সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রদর্শন করা হয়ে থাকে। google.com (পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত সার্চ ইঞ্জিন) , yahoo.com , msn.com , lycos.com, ask.com প্রভৃতি হল বিশ্বের জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন। বাংলাদেশের তৈরি প্রথম সার্চ ইঞ্জিন হচ্ছে ‘পিপীলিকা’। 

ই-মেইল কি

ই-মেইল (E-mail বা Electronic Mail) তথা ইলেক্ট্রনিক মেইল হল ডিজিটাল বার্তা যা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়। ১৯৭২ খ্রীস্টাব্দে তদানিন্তন আরপানেটে সর্বপ্রথম ইলেক্ট্রনিক মেইল প্রেরণ করা হয়। ই-মেইল পেতে প্রথম দিকের ই-মেইল ব্যবস্থায় প্রেরক এবং প্রাপক দুজনকেই অনলাইনে থাকতে হত। এখনকার ই-মেইলগুলোতে এই সমস্যা নেই। ই-মেইল সার্ভারগুলো মেইল গ্রহণ করে এবং সংরক্ষন করে পরে পাঠায়। ব্যবহারকারী বা প্রাপককে অথবা কম্পিউটারকে অনলাইনে থাকার প্রয়োজন হয় না শুধু মাত্র কোন ই-মেইল সার্ভারে থাকলেই সচল ই-মেইল ঠিকানা থাকলেই হয়।

একটি ই-মেইল বার্তা তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত- বার্তার খাম বা মোড়ক, বার্তার হেডার বা মূল (যেটাতে বার্তা কোথায় এবং কার কাছ থেকে তথ্য থাকে) এবং বার্তা। হেডার মেইল নিয়ন্ত্রনের তথ্য বহন করে, যেটাতে (কম করে হলেও) প্রেরকের ই-মেইল ঠিকানা, এক বা একাধিক প্রাপকের ঠিকানা থাকে। কিন্তু সাধারণত আরো বিস্তারিত তথ্যও থাকে যেমন হেডার বিষয়বস্তুর জন্য একটি ফিল্ড এবং বার্তা প্রেরণের তথ্য, গ্রহণের তথ্য প্রভৃতি।

উৎপত্তিগতভাবে বার্তায় লেখা (৭ বিটের আসকি এবং অন্যান্যগুলো) হল যোগাযোগের মাধ্যম কিন্তু ই-মেইল এখন মাল্টিমিডিয়াও (ছবি, লিঙ্ক, ভিডিও প্রভৃতি) পাঠাতে পারে এবং এটাচমেন্ট(সংযুক্তি) সংযুক্ত করতে পারে। এটি আরএফসি ২০৪৫ থেকে ২০৪৯এ পাঠানোর একটি প্রক্রিয়া। এই আরএফসি কে এমআইএমই বলে যার অর্থ হল মাল্টিপারপাস ইন্টারনেট মেইল ইক্সটেনশন।

অর্পানেটে নেটওয়ার্ক ভিত্তিক ই-মেইলগুলো প্রথমে বিনিময় হত এফটিপি (ফাইল ট্রান্সফার প্রোটোকল) দিয়ে, কিন্তু এখন এসএমটিপি (সিম্পল মেইল ট্রান্সফার প্রোটোকল) দিয়ে বিনিময় করা হয় যা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে। বার্তা পাঠানোর প্রক্রিয়ায় এসএমটিপি তার খাম বা এনভেলপ এ ভিন্ন (বার্তা এবং হেডার থেকে)ডেলিভারি তথ্য জমা করে রাখে।

ইমেইল ঠিকানা দুইটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশটি হল ব্যবহারকারী নাম। এর ঠিক পরপরই থাকে @ চিহ্নটি। তার পরে থাকে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর প্রতিষ্ঠানের নাম। যেমন: abc@cde.com এই ঠিকানাটিতে abc হল ব্যবহারকারী নাম, cde.com হল ব্যবহারকারীর মেইল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম। ১৯৭২ সালে ইমেইল ঠিকানায় সর্বপ্রথম @ (at sign) চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

Cc: এর ঘরে সে সমস্ত ঠিকানা টাইপ করতে হয় যাদের বরাবর প্রেরক ইমেইলের কপি পাঠাতে চাই। এখানে ইমেইল ঠিকানাগুলো পরপর কমা দিয়ে টাইপ করতে হয়। Cc দিয়ে Carbon Copy বোঝায়।

Bcc: এর ঘরে সে সমস্ত ঠিকানা টাইপ করতে হয় যাদেরকে প্রেরক ইমেইল কপি পাঠাতে চাই কিন্তু প্রাপকদের জানাতে চাইনা কাদের কাদের কপি পাঠানো হয়েছে। Bcc হল Blind Carbon Copy.

Spam: ভুয়া এবং অযাচিত মেইল এখানে  জমা হয়।

 

ফ্যাক্স ও টেলেক্স

ফ্যাক্স

ফ্যাক্স, যা কি-না ইংরেজি ফ্যাকসিমিলি শব্দের সংক্ষেপ, একটি ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র যা কোন কাগজ বা দলিলের ছবি ডিজিটাল পদ্ধতির টেলিফোন তারের সহায়তায় দূরমুদ্রণে সক্ষম। টেলিফোনে যেমন শব্দ প্রেরণ করা হয়, ফ্যাকস-এর মাধ্যমে তেমনি ইলেকট্রনিক ছবি প্রেরণ করা হয়। কার্যত: ফ্যাক্স মেশিন ছবি বা দলিলের ইলেক্ট্রণিক প্রতিচিত্র তৈরী, প্রেরণ, গ্রহণ ও মুদ্রণে সক্ষম একটি যন্ত্র।

কোন কাগজে লিখিত তথ্য অবিকৃত অবস্থায় দ্রুততম সময়ে দূর দুরান্তে পাঠানোর পদ্ধতি। এটি মূলত: একটি যন্ত্রের নাম যার মাধ্যমে ফ্যাক্স করা যায়। টেলিফোন লাইন এ ফ্যাক্স যন্ত্র বসানোর মাধ্যমে এটি ব্যবহার হয়। টেলিফোন লাইনই এর তথ্য পরিবাহক । এটি টেলেক্স এর উত্তরকালে উদ্ভাবিত একটু বিশেষ উপযোগী যন্ত্র। বিংশ মতাব্দীর শেষভাগে টেলেক্স ও টেলিগ্রাম ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরিবর্তে ফ্যাক্স-এর ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

লিখিত বক্তব্য প্রেরক যন্ত্রে স্থাপন করলে তা ফ্যাক্সের ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রের মাধ্যমে ডিজিটাল প্রতিচ্ছবিতে পরিণত হয় এবং মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে পাঠানো হয়। গ্রাহকযন্ত্র এ বক্তব্য পূর্ববত করে প্রিন্টারের সাহায্যে অবিকলভাবে প্রকাশ করে। মাইক্রোওয়েভ ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এ সংবাদ আদান-প্রদান করা হয়।

 

টেলেক্স

টেলেক্স একধরণের টেলিপ্রিন্টার। এতে একটি টাইপরাইটার থাকে। যে তথ্য, সংবাদ বা চিঠি প্রেরণ করতে হবে তা টাইপরাইটারে টাইপ করতে হয়। যে নম্বরে প্রেরণ করা হয়, সে নম্বরে তা টাইপ হয়ে বেরিয়ে আসে।

ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক

একটি সার্ভার হল চলন্ত অনুরোধ একটি এ্যাপ্লিকেশনের যা ভোক্তা থেকে অনুরোধ গ্রহণ এবং সে অনুযায়ী তার প্রতিউত্তরে সক্ষম সফটওয়্যার। সার্ভার যে কোন কম্পিউটারে চলতে পারে, নিয়োজিত করা কম্পিউটারকে একক ভাবে "সার্ভার" বুঝায়। অনেক ক্ষেত্রে একটি কম্পিউটার বিভিন্ন সেবা দিতে পারে এবং বিভিন্ন সার্ভার চালু থাকতে পারে। এটি বিভিন্ন ব্যবহারকারীকে একই সময়ে বা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরণের সার্ভিস বা সেবা প্রদান করে থাকে বলেই একে সার্ভার বলা হয়। সার্ভারের সাথে সংযুক্ত হয়ে যে সেবা গ্রহণ করে তাকে বলে ওয়ার্কস্টেশন বা ক্লায়েন্ট।

ক্লায়েন্ট টার্মিনালের মাধ্যমে সার্ভারের সাথে সংযুক্ত হয়ে ডেটা প্রসেসের জন্য অনুরোধ পাঠায়। ব্যবহারকারী বা ক্লায়েন্ট টার্মিনাল দুই ধরণের হয়-

১. ডাম্ব টার্মিনালঃ

ক. শুধুমাত্র কিবোর্ড এবং মনিটর থাকে।

খ. কোন প্রোসেসিং ইউনিট থাকেনা।

২. স্মার্ট টার্মিনালঃ

কিবোর্ড, মনিটর এবং নিজস্ব প্রোসেসিং ইউনিট থাকে।

পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্কঃ

দুই বা ততোধিক কম্পিউটার সংযুক্ত করে করে পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয় যেখানে কোন সার্ভার কম্পিউটার থাকেনা। সব কম্পিউটার একই সুবিধা ভোগ করে। এ ধরণের LAN এ কেন্দ্রীয়ভাবে কোন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকেনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়।

পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্কের অসুবিধাঃ

১. নেটওয়ার্ক সেটআপ খুব সহজ।

২. ব্যবহারকারী যে কোন রিসোর্স ভাগাভাগি করতে পারেন।

পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্কের অসুবিধাঃ

১. নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুব দুর্বল।

২. একাধিক নেটওয়ার্কের সাথে সংযোগ দেওয়া অসুবিধা।

৩. কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই।

 

প্রক্সি সার্ভার

প্রক্সি সার্ভার
ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হলে কম্পিউটারের ইউনিক একটি ঠিকানা বা অ্যাড্রেস থাকতে হবে, যাকে আইপি অ্যাড্রেস বলে। এই আইপি অ্যাড্রেস এর মাধ্যমেই ঐ কম্পিউটারকে পৃথিবীর অন্য সকল কম্পিউটার থেকে আলাদা করা যাবে। আইপি অ্যাড্রেস দুই ধরনের।

১. প্রাইভেট আইপি অ্যাড্রেস বা লোকাল আইপি অ্যাড্রেস
২. পাবলিক আইপি অ্যাড্রেস বা রিয়েল আইপি অ্যাড্রেস

পাবলিক আইপি অ্যাড্রেসগুলোর মাধ্যমেই ইন্টারনেটে যুক্ত হতে হয়। আর এই পাবলিক আইপি অ্যাড্রেস এর সংখ্যা সীমিত এবং এটা দেশ অনুসারে ভাগ করা এবং এই পাবলিক আইপি পেতে হলে টাকা খরচ করতে হবে। এই সমস্যা থেকে বাচার জন্য মূল কথা হচ্ছে টাকা বাচানোর জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিটি কম্পিউটারের জন্য একটি করে আইপি অ্যাড্রেস না কিনে একটিমাত্র অ্যাড্রেস কিনে। এরপর এই আইপি অ্যাড্রেসটা একটি ডিভাইসে (কম্পিউটার, রাউটার) সেট করে দেয়া হয়। আর বাকী সব কম্পিউটারগুলোতে একটি করে প্রাইভেট বা লোকাল আইপি বসিয়ে দেয়া হয় [একটা বিষয় জেনে রাখা দরকার যে লোকাল আইপি অ্যাড্রেস হিসেবে ব্যবহার করা হয় ১. 10.0.0.0 থেকে 10.255.255.255 পর্যন্ত ২. 172.16.0.0 থেকে 172.31.255.255 পর্যন্ত ৩. 192.168.0.0 থেকে 192.168.255.255 পর্যন্ত]। এখন পাবলিক আইপি ছাড়া অন্য সব পিসিগুলো সরাসরি ইন্টারনেটে কানেক্ট হতে চাইলে তা পারবে না, যেহেতু তার পাবলিক আইপি নেই। কিন্তু তারা ঐ পাবলিক আইপিওয়ালা কম্পিউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেটে যুক্ত হতে পারবে। পাবলিক আইপিওয়ালা কম্পিউটারটি এক্ষেত্রে মিডিয়াম হিসেবে কাজ করবে। আর ঐ পাবলিক আইপির কম্পিউটারকেই প্রক্সি সার্ভার বলা হয়।

উদাহরণঃ ধরা যাক পাবলিক আইপি যে কম্পিউটারে আছে তার নাম proxy server। আর প্রাইভেট আইপি যে কম্পিউটার দুটিতে আছে তার নাম client 1 এবং client 2। মনে করি এখন client 1 https://www.google.com এ ওয়েবপেজটি দেখতে চাইছে। এখন client 1 তার রিকোয়েস্টটি সার্ভারে জানাবে যে সে ওয়েবপেজটি দেখতে চাইছে। সার্ভার তার রিকোয়েস্ট গ্রহণ করে ওয়েবপেজটি ডাউনলোড client 1 এর কাছে আবার পাঠিয়ে দিবে। সার্ভার রিকোয়েস্ট গ্রহণ করার সময় মনে রাখবে রিকোয়েস্ট কোথা থেকে এসেছিল, কারণ রিকোয়েস্ট যেখান থেকে এসেছিল সেখানে আবার উত্তর পাঠাতে হবে।

প্রক্সি সার্ভার যে কারণে ব্যবহার করা হয়
১. লোকাল কম্পিউটারকে পুরোপুরি অ্যানোনিমাস করার জন্য। কোথা থেকে এসেছে কেউ ধরতেই পারবে না
২. ক্যাশিং করার জন্য ( উপরের উদাহরণ অনুসারে client 2 ও যদি https://www.google.com ওয়েবপেজটি দেখতে চায় তখন সার্ভারকে নতুন করে ওয়েবপেজটি ডাউনলোড করতে হবে না। যেহেতু আগেই ডাউনলোড করা আছে। ফলে client 2 এর ব্রাউজিং স্পীড অনেক বেশী হবে। এটাই হচ্ছে ক্যাশিং )
৩. লোকাল নেটওয়ার্কে অনাকাঙ্খিত ওয়েবসাইট বন্ধ করার জন্য (অফিস/ভার্সিটিতে যেভাবে ফেসবুক, ইউটিউব বন্ধ থাকে।)
৪. ইন্টারনেটের লগ রিপোর্ট দেখার জন্য। যেমন প্রক্সির মাধ্যমে খুব সহজেই বের করা যায় কতটুকু ডাটা ট্রান্সফার হয়েছে।
৫. সিকিউরিটিকে বাইপাস করার জন্য
এগুলো ছাড়া আরও অনেক কাজ করা যায় প্রক্সির মাধ্যমে। তবে বেশীরভাগ প্রক্সিই হচ্ছে ওয়েব প্রক্সি। ওয়েব প্রক্সির মাধ্যমেই পুরোপুরি অ্যানোনিমাস হয়ে যাওয়া সম্ভব, নিজের লোকেশন হাইড করা সম্ভব। অ্যানোনিমাস বলতে বোঝায় এন্ড ইউজার কোথায় আছে সেটা বোঝা যাবে না।

ping কমান্ড
এই কমান্ড দিয়ে মূলত হোস্টের সাথে ক্লায়েন্ট পিসির নেটওয়ার্কের কানেকশন এবং প্যাটেন্সি পরীক্ষা করা হয়।

 

মোবাইল প্রযুক্তি

মোবাইল ফোন, সেলুলার ফোন বা হ্যান্ড ফোন তারবিহীন টেলিফোন বিশেষ। মোবাইল অর্থ ভ্রাম্যমান বা "স্থানান্তরযোগ্য"। এই ফোন সহজে যেকোনও স্থানে বহন করা এবং ব্যবহার করা যায় বলে মোবাইল ফোন নামকরণ করা হয়েছে। এটি ষড়ভূজ আকৃতির ক্ষেত্র বা এক-একটি সেল নিয়ে কাজ করে বলে একে "সেলফোন" নামেও পরিচিত। মোবাইল ফোন বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে যোগাযোগ করে বলে অনেক বড় ভৌগোলিক এলাকায় এটি নিরবিচ্ছিন্নভাবে সংযোগ দিতে পারে। শুধু কথা বলাই নয়, আধুনিক মোবাইল ফোন দিয়ে আরো অনেক সেবা গ্রহন করা যায়। এর উদাহরণ হচ্ছে খুদে বার্তা -এসএমএস বা টেক্সট মেসেজ সেবা, এমএমএস বা মাল্টিমিডিয়া মেসেজ সেবা, ই-মেইল সেবা, ইন্টারনেট সেবা, অবলোহিত আলো বা ইনফ্রা-রেড, ব্লু টুথ সেবা, ক্যামেরা, গেমিং, ব্যবসায়িক বা অর্থনৈতিক ব্যবহারিক সফটওয়্যার ইত্যাদি। যেসব মোবাইল ফোন এইসব সেবা এবং কম্পিউটারের সাধারন কিছু সুবিধা প্রদান করে, তাদেরকে স্মার্ট ফোন নামে ডাকা হয়।

মোবাইল বা সেলুলার টেলিফোন ইউনিটে মূল তিনটি অংশ রয়েছে-

ক. কন্ট্রোল ইউনিট

খ. ট্রান্সিভার

গ. এন্টেনা সিস্টেম

এই তিনটি উপাদান ছাড়াও মোবাইলের আরও কিছু উপাদান থাকে-

১. তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারী - ফোনের শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।

২. কোন ইনপুট পদ্ধতি যার সাহায্যে ফোন ব্যবহারকারীর সাথে ফোনের মিথস্ক্রিয়া বা দ্বি-পাক্ষিক যোগাযোগ সম্ভব হয়। সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত ইনপুট পদ্ধতি হচ্ছে কী প্যাড তবে ইদানীং স্পর্শ কাতর পর্দা বা টাচ স্ক্রীন তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

৩. ব্যবহারকারীকে জিএসএম মোবাইল ফোনের সার্ভিস প্রোভাইডার একটি SIM (Subscriber Identity Module) কার্ড সরবরাহ করে। সিডিএম ডিভাইসে একই ধরণের কার্ড রয়েছে যাকে R-UIM (Removable User Identity Module) বলা হয়।

৪. প্রতিটি স্বতন্ত্র ফোনের জন্য একটি করে স্বতন্ত্র আইএমইআই (IMEI) নাম্বার যার সাহায্যে ওই ফোনটিকে সনাক্ত করা যায়।

নিম্নস্তরের মোবাইল ফোনকে প্রায়ই ফিচার ফোন বলে ডাকা হয় এবং এগুলো শুধুমাত্র প্রাথমিক টেলিফোন যোগাযোগ সুবিধা দেয়। আর কিছু মোবাইল ফোন আরও অগ্রসর সুবিধা এবং কম্পিউটারের মত সেবা প্রদান করে, তাদেরকে স্মার্ট ফোন বলে।

বেশ অনেক মোবাইল ফোনের পরম্পরা কিছু নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীকে উদ্দেশ্য করে তৈরী করা হয়েছে। যেমন বহুজাতিক বা কর্পোরেট ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষায়িত ই-মেইল সুবিধা নিয়ে এসেছিল ব্ল্যাকবেরি। সনি-এরিক্সনের গান শোনার বিশেষায়িত 'ওয়াকম্যান' সিরিজ বা 'সাইবারশট' ক্যামেরা ফোন, নকিয়ার এন সিরিজ মাল্টি মিডিয়া ফোন এবং আইফোন সিরিজ বা স্যামসাং এর গ্যালাক্সী এস সিরিজ।

বর্তমানে প্রচলিত মোবাইল ফোন প্রযুক্তিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়-

ক. জিএসএম প্রযুক্তি

খ. সিডিএমএ প্রযুক্তি

জিএসএম প্রযুক্তি

GSM (Global System for Mobile Communication) হচ্ছে FDMA (Frequency Division Multiple Access) এবং TDMA (Time Division Multiple Access) এর সম্মিলিত একটি চ্যানেল অ্যাকসেস পদ্ধতি। বাংলাদেশে টেলিটক, গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল মোবাইল অপারেটর GSM প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ১৯৯১ সালে GSM কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে GSM প্রযুক্তি মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে ব্যবহার শুরু হয়।

GSM প্রযুক্তি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয়  মোবাইল নেটওয়ার্ক যা ২১৮টি দেশে ব্যবহৃত হয়। কাজেই এ প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা বেশী পাওয়া যায়। SIM সহজলভ্যতার কারণে ব্যবহারকারীগণ ইচ্ছামত GSM নেটওয়ার্ক এবং হ্যান্ডসেট বা মোবাইল সেট পরিবর্তন করতে পারে। এ প্রযুক্তি মোবাইল ডেটা ট্রান্সমিশনের ক্ষেত্রে উচ্চগতির প্রযুক্তি GPRS (General Packet Radio Service) ও EDGE (Enhanced Data Rate for GSM Evolution) সুবিধা প্রদান করে।

খরচ তুলনামুলকভাবে বেশী যা গড়ে প্রায় ২ ওয়াট; যেখানে CDMA টেকনোলোজির ক্ষেত্রে গড়ে মাত্র ২০০ মাইক্রোওয়াট। এর ডেটা ট্রান্সফার রেট তুলনামূলকভাবে কম যা ৫৬ kbps. GSM এ পালস টেকনোলজি ব্যবহারের কারণে হাসপাতাল, এরোপ্লেন প্রভৃতি স্থানে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকে।

 

সিডিএমএ প্রযুক্তি

আমেরিকান ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান “কোয়ালকম” আবিষ্কৃত CDMA একটি এডভান্সড ডিজিটাল ওয়্যারলেস প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তিতে প্রতিটি কল বা ডেটা পাঠানো হয় ইউনিক কোডিং পদ্ধতি ব্যবহার করে। এটির শুরু দ্বিতীয় প্রজন্মের ওয়্যারলেস প্রযুক্তির মাধ্যমে। CDMA যে পদ্ধতিতে ডেটা আদানপ্রদান করে তাকে স্প্রেড স্পেকট্রাম বলে। এ পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীকে একটা কোড দেওয়া হয় যা রিসিভার প্রান্তে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। এটি একাধিক ব্যবহারকারীকে একই ফ্রিকোয়েন্সির ব্যান্ড শেয়ার করার সুবিধা দিয়ে থাকে যা মাল্টিপল এক্সেস নামে পরিচিত। বাংলাদেশে মোবাইল অপারেটর সিটিসেল CDMA প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

CDMA তে ট্রান্সমিশন পাওয়ার খুবই কম। তাই কথা বলার সময় রেডিয়েশন কম হয়। তাই একে গ্রিনফোনও বলা হয়। যেহেতু CDMA সিস্টেমে কম পাওয়ার দরকার হয় সেহেতু ব্যাটারির আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি পায়। CDMA এর কল মান অপেক্ষাকৃত ভালো। একই ব্যান্ডউইথে CDMA  সিস্টেম GSM সিস্টেম অপেক্ষা ৪ থেকে ৫ গুণ বেশী ধারণক্ষম। নেটওয়ার্ক সেল সাইট ১১০ কিমি পর্যন্ত কাভার করে।

CDMA তে আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা অপ্রতুল। এ প্রযুক্তিতে যে কোন ধরণের মোবাইল সেট ব্যবহার করা যায়না। এর জনপ্রিয়তা ও ব্যবহার তুলনামূলক কম। এ প্রযুক্তিতে ব্যবহারকারী বাড়ার সাথে সাথে ট্রান্সমিশনের গুনগত মান হ্রাস পায়।

আইবিএম

আই বি এম (International Business Machines Corporation) যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। ১৯১১ সালে আইবিএম প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আর্মংক (Armonk) নামক স্থানে অবস্থিত। আইবিএম হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার প্রস্তুত ও বিক্রয় করে থাকে। আইবিএমের গবেষকবৃন্দ পাচটি নোবেল পুরস্কার, চারটি টুরিং পুরস্কার, নয়টি ন্যাশনাল মেডেল অব টেকনোলজি এবং পাঁচটি ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স লাভ করেছেন।

মার্কিন প্রকৌশলী হারম্যান হলিরিথ টেবুলেটিং মেশিন নামক একই যন্ত্র উদ্ভাবন করেন যা জনসংখ্যাতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহকে অনেকখানি যান্ত্রিক করতে সক্ষম হয়েছিল। ১৮৯০ সালে মার্কিন জনসংখ্যা ব্যুরো হলিরিথের যন্ত্র ব্যবহার করে মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বমোট জনসংখ্যা নিরুপনে সক্ষম হয়। হলিরিথ ১৮৯৬ সালে টেবুলেটিং মেশিন কোম্পানি নামক একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। হলিরিথের এই প্রতিষ্ঠানের সাথে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ১৯১১ সালে আইবিএম প্রতিষ্ঠিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে আইবিএম বেশি সংখ্যক প্যাটেন্টের অধিকারী। আইবিএমের বিখ্যাত আবিষ্কারসমূহের মধ্যে এটিএম, হার্ড ডিস্ক, ফ্লপি ডিস্ক উল্লেখযোগ্য। আইবিএম-কে ‘বিগ ব্লু’ নামে ডাকা হয়।

 

মাইক্রোসফট

মাইক্রোসফট কর্পোরেশন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি কম্পিউটার প্রযুক্তি কর্পোরেশন। এটি বিভিন্ন কম্পিউটার ডিভাইসের জন্য সফটওয়্যার তৈরি, লাইসেন্স দেওয়া এবং পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। এটির সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের রেডমন্ড শহরে অবস্থিত। এদের সবচেয়ে জনপ্রিয় সফটওয়্যারগুলো হল মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এবং মাইক্রোসফট অফিস। ১৯৭৫ সালের ৪ এপ্রিল মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠিত হয়। বিল গেটস এবং তার বন্ধু পল অ্যালেন মিলে মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেন। মাইক্রোসফটের বর্তমান সিইও সত্য নাদেলা।

গুগল ইনকর্পোরেটেড

গুগল ইনকর্পোরেটেড (Google Incorporated) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বহুজাতিক ইন্টারনেট এবং সফটওয়্যার কোম্পানী এবং বিশেষভাবে তাদের গুগল সার্চ ইঞ্জিনের, অনলাইন বিজ্ঞাপন সেবা এবং ক্লাউড কম্পিউটিংএর জন্য বিশ্বখ্যাত। এটি ইন্টারনেট ভিত্তিক বেশকিছু সেবা ও পন্য উন্নয়ন এবং হোস্ট করে। প্রাথমিকভাবে এটি "এডওয়ার্ডস” প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে অর্থ আয় করে। এর প্রধান কার্যালয় ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেইন ভিউ শহরে অবস্থিত। গুগলের মূলমন্ত্র হল "বিশ্বের তথ্য সন্নিবেশিত করে তাকে সবার জন্য সহজলভ্য করে দেয়া"। গুগলের অপ্রাতিষ্ঠানিক মূলমন্ত্র হল "Don't be evil"। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন পিএইচডি ছাত্র ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিন গুগলের প্রতিষ্ঠাতা।

গুগল প্রথম ইনকর্পোরেট হয় প্রাইভেট কোম্পানী হিসেবে ১৯৯৮ সনের ৪ই সেপ্টেম্বর এবং এর প্রাথমিক শেয়ার (আইপিও) ছাড়া হয় ২০০৪ সনের ১৯শে আগস্ট। সেই সময় ল্যারি পেইজ, সের্গেই ব্রিন এবং এরিক স্কমিট গুগলে ২০ (২০২৪ সাল পর্যন্ত) বছেরর জন্য একসাথে কাজ করতে একমত হন। ২০০৬ সালে, কোম্পানিটি মাউন্ট ভিউতে স্থানান্তরিত হয়।

যখন থেকে এটি ইনকর্পোরেশনে পরিবর্তিত হয় তখন থেকেই এটি সবদিকে বাড়তে শুরু করে, শুধুমাত্র সার্চ ইঞ্জিনই নয়। কোম্পানিটি অনলাইন সেবা যেমন জিমেইল - ইমেইল সেবা, গুগল ডকস - অফিস সুইট এবং গুগল প্লাস - সামাজিক নেটওয়ার্কিং সেবা প্রভৃতি প্রদান করে থাকে। গুগলের পন্য ইন্টারনেট ছাড়াও ডেস্কটপেও ব্যবহার হয় যেমন গুগল ক্রোম - ওয়েব ব্রাউজার, পিকাসা - ছবি সংগঠিত এবং সম্পাদন করার সফটওয়্যার এবং গুগল টক - ইনস্ট্যান্ট ম্যাসেজিং এপ্লিকেশন প্রভৃতি। গুগল মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড এবং গুগল ক্রোম অপারেটিং সিস্টেম যা শুধু ব্রাউজার অপারেটিং সিস্টেম (বিশেষ ল্যাপটপ ক্রোমবুকে পাওয়া যায়) পরিচালনা করে। গুগলের প্রকৃত নাম ব্যাকরাব (BackRub).

গুগল সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন ডেটা সেন্টারে প্রায় এক মিলিয়ন সার্ভার চালায় ও এক বিলিয়নের উপর সার্চের অনুরোধ এবং প্রায় ২৪ পেটাবাইট ব্যবহারকারী কতৃক তেরী ডেটা প্রক্রিয়াকরণ করে প্রতিদিন। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর অনুযায়ী এলেক্সা আমেরিকার সবচেয়ে বেশী ব্যবহার করা ওয়েবসাইটের তালিকায় স্থান দেয় গুগলকে। এছাড়াও গুগলের অন্যান্য আর্ন্তজাতিক সাইট যেমন ইউটিউব, ব্লগার এবং অরকুট সেরা একশটি সাইটে স্থান পায়। ব্রান্ডয্ তাদের ব্রান্ড ইকুইটি ডাটাবেজে গুগলকে ২য় স্থান দেয়। গুগলের আধিপত্য বিভিন্ন সমালোচনার জন্ম দিয়েছে যেমন কপিরাইট, গোপনীয়তা এবং সেন্সরশিপ প্রভৃতি

ইনটেল কর্পোরেশন

ইনটেল কর্পোরেশন একটি মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি। এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ সেমিকন্ডাক্টর চিপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। ১৯৬৮ সালে ইনটেল প্রতিষ্ঠিত হয়। রবার্ট নয়েস, গর্ডন মুর এবং এন্ড্রু গুভ এর প্রতিষ্ঠাতা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান্টা ক্লারে তে এর সদরদপ্তর অবস্থিত।

অ্যাপল ইনকর্পোরেটেড

অ্যাপল ইনকর্পোরেটেড  হচ্ছে একটি বিখ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত কম্পিউটার, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ও সফটওয়্যার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। শুরুতে এ প্রতিষ্ঠানের নাম ছিলো অ্যাপল কম্পিউটার ইনকর্পোরেশন। প্রতিষ্ঠানটি নানা ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্য, কম্পিউটার সফটওয়্যার এবং পারসোনাল কম্পিউটার তৈরী করে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের তৈরী ম্যাকিনটোস কম্পিউটার তৈরীর মাধ্যমে বেশি পরিচিতি লাভ করেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অপারেটিং সিস্টেম ওএস এক্সের মাধ্যমে তৈরী করে আইপড, আইফোন এবং আইপড তৈরী করে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি গান শোনার সফটওয়্যার আইটিউনস এবং মাল্টিমিডিয়া ও ক্রিয়েটিভ সফটওয়্যার আইলাইফ তৈরী করে। এছাড়া ইন্টারনেট ব্রাউজার সাফারি এবং মোবাইল ফোনের অপারেটিং সিস্টেম আইওএস তৈরী করে। ২০১০ সালের আগষ্ট মাসে প্রতিষ্ঠানটি ১০টি দেশের ৩০১টি রিটেইল স্টোর এবং নিজস্ব অনলাইন স্টোরে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার বিক্রি করে থাকে। মাইক্রোসফটের পাশাপাশি ২০১০ সালে মে মাস পর্যন্ত অ্যাপল বিশ্বের সেরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের কুপারটিনোতে এর সদরদপ্তর অবস্থিত। ১৯৭৬ সালের ১ এপ্রিল অ্যাপল প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন স্টিভ জবস, রোনাল্ড ওয়েইন ও স্টিভ ওজনিয়াক।

ওরাকল কর্পোরেশন ও কম্পিউটার মিউজিয়াম

ওরাকল কর্পোরেশন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বহুজাতিক কম্পিউটার প্রযুক্তি কর্পোরেশন। ১৯৭৭ সালে ল্যারি এল্লিসোন, বব মিনার ও এড ওয়াটিস ওরাকল প্রতিষ্ঠিত করেন। এর সদরদপ্তর ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড সিটিতে অবস্থিত।

কম্পিউটার মিউজিয়াম

বিশ্বের প্রথম ও একমাত্র কম্পিউটার যাদুঘর যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অবস্থিত।

ক্লাউড কম্পিউটিং

ইন্টারনেটে বা ওয়েবে সংযুক্ত হয়ে কিছু গ্লোবাল সুবিধা ভোগ করার যে পদ্ধতি তাই হচ্ছে ক্লাউড কম্পিউটিং। এটি একটি বিশেষ পরিসেবা। এখানে “ক্লাউড” বলতে দূরবর্তী কোন শক্তিশালী সার্ভার কম্পিউটারকে বোঝানো হয়। বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে ইন্টারনেট সংযুক্ত কম্পিউটারের মাধ্যমে “ক্লাউড” প্রদত্ত সেবাসমূহ ভোগ করা যায়।

“ক্লাউড কম্পিউটিং” কম্পিউটিং শক্তি, অনলাইন পরিসেবা, ডেটা এক্সেস, ডেটা স্পেস প্রদান করে। ক্লাউড কম্পিউটিং আজকের দিনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, অনলাইন ব্যাকআপ সার্ভিস, সামাজিক যোগাযোগ সার্ভিস এবং পার্সোনাল ডেটা সার্ভিস। ক্লাউড কম্পিউটিং এর জন্য ইন্টারনেট সংযোগ অপরিহার্য। তবে কখনো কোন কারণে ক্লাউড বা সার্ভারে সমস্যা হলে কাজের ক্ষতি হয়।

ক্লাউড লোকেশনের ভিত্তিতে ক্লাউড কম্পিউটারকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথাঃ

১. পাবলিক ক্লাউডঃ ক্লাউড সেবা প্রতিষ্ঠানকে যে কোন জায়গা থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযুক্ত করতে পারলে তা হবে পাবলিক ক্লাউড। মোবাইল সেবা প্রতিষ্ঠান (mail.yahoo.com, mail.google.com ইত্যাদি) পাবলিক ক্লাউডের উদাহরণ।

২. প্রাইভেট ক্লাউডঃ ক্লাউড সেবা যদি কেবল কোন গ্রুপ অথবা প্রতিষ্ঠানের জন্য হয়ে থাকে তবে তা প্রাইভেট ক্লাউড। এতে ইন্টারনেট ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়। প্রাইভেট ক্লাউড আবার দুই ধরণের হতে পারে। একটি হচ্ছে একান্তভাবে কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত। অন্যটি হচ্ছে গ্রুপভিত্তিক। নির্দিষ্ট গ্রুপ ছাড়া অন্য কেউ সেখানে ঢুকতে পারবে না।

৩. কমুনিটি ক্লাউডঃ কোন কমুনিটির অন্তর্গত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যাদের একই ধরণের ক্লাউড সুবিধা প্রয়োজন, যদি একটি নির্দিষ্ট ক্লাউড ব্যবহার করে থাকে তবে তাকে কমুনিটি ক্লাউড বলে। যেমনঃ সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত কোন সুবিধা যদি ক্লাউডের অধীনে নেওয়া হয় তবে দেশের সকল নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান সেই ক্লাউডের অন্তর্ভুক্ত হয়ে উক্ত সুবিধা পেতে পারে।

৪. হাইব্রিড ক্লাউডঃ যে ক্লাউডে পাবলিক, প্রাইভেট এবং কমুনিটি ক্লাউডের মধ্যে যে কোন দুটি বা তিনটির সংমিশ্রণ থাকে তাকে হাইব্রিড ক্লাউড বলা হয়।

কাজঃ বিভিন্ন প্রকার টপোলজির মধ্যে তুলনামূলক একটি চার্ট তৈরি করা।

ক্লাউড কম্পিউটিং এর সুবিধাঃ

১. ক্লাউড কম্পিউটিং পদ্ধতি সম্ভবত সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে কম্পিউটার দ্বারা প্রক্রিয়াকরণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি। প্রচলিত সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যবহারকারীর জন্য পৃথক পৃথকভাবে লাইসেন্স কপি ক্রয় করতে হয়। এক্ষেত্রে তা প্রয়োজন পড়ে না।

২. ক্লাউড কম্পিউটিং পদ্ধতিতে স্মৃতির ধারণক্ষমতা অনেকটা অসীম। এই পদ্ধতির ব্যবহারকারীকে স্মৃতির ধারণক্ষমতা নিয়ে ভাবতে হয়না।

৩. যেহেতু সকল ডেটা সার্ভারে জমা হয় এবং সার্ভার হতে উত্তোলন হয় তাই ডেটার রিস্টোর নিয়ে চিন্তা করতে হয়না।

৪. ক্লাউড কম্পিউটিং পদ্ধতিতে সফটওয়্যার সমন্বয় করা যায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে। এই পদ্ধতিতে ব্যবহারকারী তার প্রয়োজনে সবচেয়ে ভালো অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করতে পারে।

৫. এই পদ্ধতিতে ক্লাউড কম্পিউটিং এ রেজিস্টার করার পর, ব্যবহারকারী যে কোন স্থান থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য অ্যাকসেস করতে পারে।

ক্লাউড কম্পিউটিং এর অসুবিধাঃ

১. ডেটা, তথ্য, প্রোগ্রাম বা অ্যাপ্লিকেশনের উপরে কারো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। একবার ক্লাউডে তথ্য পাঠিয়ে দেওয়ার পর তা কোথায় সংরক্ষণ হচ্ছে বা কিভাবে প্রসেস হচ্ছে তা ব্যবহারকারীদের জানার উপায় থাকে না।

২. ক্লাউডে তথ্যের গোপনীয়তা ভঙ্গের সম্ভাবনা থাকে এবং তথ্য পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

 

 

ফেসবুক কি

ফেসবুক বিশ্ব-সামাজিক আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থার একটি ওয়েবসাইট, যা ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটিতে নিখরচায় সদস্য হওয়া যায়। এর মালিক হলো ফেসবুক ইনক। ফেসবুক বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট। ব্যবহারকারীগণ বন্ধু সংযোজন, বার্তা প্রেরণ এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্যাবলী হালনাগাদ ও আদান প্রদান করতে পারেন, সেই সাথে একজন ব্যবহারকারী শহর, কর্মস্থল, বিদ্যালয় এবং অঞ্চল-ভিক্তিক নেটওয়ার্কেও যুক্ত হতে পারেন। শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যকার উত্তম জানাশোনাকে উপলক্ষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক প্রদত্ত বইয়ের নাম থেকে এই ওয়েবসাইটটির নামকরণ করা হয়েছে।

 

ফেসবুকের আবিষ্কার ও বিস্তার

মার্ক জাকারবার্গ হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন তার কক্ষনিবাসী ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্র এডওয়ার্ডো সেভারিন, ডাস্টিন মস্কোভিত্‌স এবং ক্রিস হিউজেসের যৌথ প্রচেষ্টায় ফেসবুক নির্মাণ করেন। ওয়েবসাইটটির সদস্য প্রাথমিকভাবে  হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু পরে সেটা বোস্টন শহরের অন্যান্য কলেজ, আইভি লীগ এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। আরো পরে এটা সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, হাই স্কুল এবং ১৩ বছর বা ততোধিক বয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। সারাবিশ্বে বর্তমানে এই ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করছেন ৩০০ মিলিয়ন কার্যকরী সদস্য।

ফেসবুকের ইতিহাস

মার্ক জাকারবার্গ, হার্ভার্ড এ তার ২য় বর্ষ চলাকালীন সময়ে, অক্টোবর ২৮, ২০০৩ এ তৈরি করেন ফেসবুকের পূর্বসূরি সাইট ফেসম্যাস। এতে তিনি হার্ভার্ডের ৯ টি হাউস এর শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যাবহার করেন। তিনি দুইটি করে ছবি পাশাপাশি দেখান এবং হার্ভার্ডের সব শিক্ষারথিদের ভোট দিতে বলেন। কোন ছবিটি হট আর কোনটি হট নয়। 'হট অর নট'। এজন্য মার্ক জুকারবার্গ হার্ভার্ডের সংরক্ষিত তথ্য কেন্দ্রে অনুপ্রবেশ বা হ্যাঁক করেন। ফেসম্যাস সাইট এ মাত্র ৪ ঘণ্টায় ৪৫০ ভিজিটর ২২০০০ ছবিতে অন লাইন এর মাধ্যমে ভোট দেন।

  • ২০০৪: ফেসম্যাস হতে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০০৪ এর জানুয়ারিতে মার্ক তার নতুন সাইট এর কোড লেখা শুরু করেন এবং ফেব্রুয়ারিতে হার্ভার্ডের ডরমিটরিতে দি ফেসবুক.কম এর উদ্বোধন করেন। শিঘ্রই মার্ক জাকারবার্গ এর সাথে যোগ দেন ডাস্টিন মস্কোভিৎজ (প্রোগ্রামার), ক্রিস হুগেস ও এডোয়ার্ডো স্যাভেরিন (ব্যবসায়িক মুখপাত্রও) এবং অ্যান্ডরু ম্যাককলাম (গ্রাফিক্ আর্টিস্ট); জুনে প্যালো আল্টোতে অফিস নেওয়া হয়। ডিসেম্বরে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছায়।
  • ২০০৬: আগস্টে ‘দ্য ফেসবুক ডটকম’ নাম পাল্টে কোম্পানির নাম রাখা হয় শুধু ‘ফেসবুক’। ডিসেম্বরে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৫ লাখ।
  • ২০০৬: কৌশলগত কারণে আগস্টে ফেসবুকের সঙ্গে মাইক্রোসফট সম্পর্ক স্থাপন করে। সেপ্টেম্বর থেকে সর্বসাধারণের জন্য ফেসবুক উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আগে শুধু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই ছিলেন এর ব্যবহারকারী। ডিসেম্বরে ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় এক কোটি ২০ লাখে।
  • ২০০৭: ফেব্রুয়ারিতে ভার্চুয়াল গিফট শপ চালু হয়। এপ্রিলে ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌঁছায় দুই কোটি।
  • ২০০৮: কানাডা ও ব্রিটেনের পর ফেব্রুয়ারিতে ফ্রান্স ও স্পেনে ফেসবুকের ব্যবহার শুরু হয়। এপ্রিলে ফেসবুক চ্যাট চালু হয়। আগস্টে ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ কোটিতে।
  • ২০০৯: জানুয়ারিতে ব্যবহারকারী ১৫ কোটি। ডিসেম্বরে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৫ কোটিতে।
  • ২০১০: ফেব্রুয়ারিতে যে সংখ্যা ছিল ৪০ কোটি, জুলাইয়ে সেই সংখ্যা ৫০ কোটি ছাড়িয়ে যায়। আর ডিসেম্বরে এ সংখ্যা ৫৫ কোটি।

 

ফেসবুকের অফিস

২০১১ সালের শুরুর দিকে ফেসবুক ঘোষনা করে, তাদের প্রধান অফিস ম্যানলো পার্কে সরানোর পরিকল্পনার কথা। ২০১০ সালে ফেসবুক তাদের চতুর্থ অফিস খুলে হায়দ্রাবাদে এবং এশিয়ায় সেটিই প্রথম। ফেসবুক জানিয়েছে তারা হায়দ্রাবাদের কেন্দ্রে কর্মী নেয়া শুরু করেছে  যা ফেসবুকের মূল কর্মযজ্ঞে ক্যালিফোর্নিয়া, ডাবলিন এবং অস্টিনের পাশাপাশি ভূমিকা রাখবে। ২০১১ সালের এপ্রিলে অরিগনের প্রিন্সভিলে ফেসবুক ডাটা সেন্টার স্থাপন করে। ২০১২ সালের এপ্রিলে ২য় আরেকটি ডাটা সেন্টার স্থাপন করে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার ফরেস্ট সিটিতে। ডাটা সেন্টারে ফেসবুকের যাবতীয় কম্পিউটার সিস্টেম এবং এর উপাদানসমূহ যেমনঃ টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও তথ্য সংরক্ষণ করা হয়।

 

ফেসবুকের বিভিন্ন ফিচার

২০০৮ সালের ২০শে জুলাই ফেসবুক সূচনা করে ফেসবুকের নতুন রূপ “ফেসবুক বেটা”। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে সব ব্যবহারকারিকেই নতুন চেহারার ভার্সনে পরিবর্তিত করা হয় যা ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়। ১১ ডিসেম্বর, ২০০৮ সালে এটি ঘোষনা করে যে, তারা সদস্য অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি অতি সাধারণ সাইনআপ বা রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চালু করতে যাচ্ছে। এরপর থেকে প্রতিনিয়তই চাহিদার সাথে সাযুজ্য রেখে বিভিন্ন ফিচার যেমন, নিউজফিড, নোট, চ্যাট, উপহার, মার্কেটপ্লেস, বার্তা, ভয়েস কল, ভিডিও কল, ভিডিও দেখা সংযুক্ত হয়েছে এবং হচ্ছে।

 

২০০৬- ৬ই সেপ্টেম্বর ২০০৬ সালে ‘নিউজ ফিড’ ফিচারটি প্রকাশিত হয়। নিউজ ফিড এমন একটি ফিচার যা প্রতিটি ব্যবহারকারির হোমপেজে আসে এবং বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে যেমন প্রোফাইলে কোন পরিবর্তন, আগত কোন ইভেন্ট বা বন্ধুদের জন্মদিনের খবর ইত্যাদি।

২০০৬- ২০০৬ সালের আগষ্টের ২২ তারিখ ফেসবুক ‘নোট’ ফিচারটি চালু করে। ‘নোট’ মূলত একটি ব্লগিং বৈশিষ্ট্যের ধারক যেখানে ব্লগের মতো লেখা, ছবি, লিঙ্ক, ভিডিও প্রভৃতি যোগ করা যায়।

২০০৭- ২০০৭ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি ফেসবুক ‘উপহার’ সেবাটি চালু করে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারি বিভিন্ন উপহার তাদের বন্ধুদের পাঠাতে পারে। প্রতিটির এক ডলার করে দাম এবং এর সাথে প্রেরকের নিজস্ব বার্তা জুড়ে দেওয়া যায়।

২০০৭- ২০০৭ সালের ১৪ই মে ফেসবুক তাদের ‘বাজার’ বা ‘মার্কেটপ্লেস’ সেবাটি চালু করে। এতে ব্যবহারকারিরা ফ্রি শ্রেণীবিনস্ত বিজ্ঞাপন দিতে পারে। 

২০০৮- ২০০৮ সালের ৭ই এপ্রিলে তাৎক্ষনিক ‘বার্তা আদান প্রদান’ সেবাটি চালু করে যা ‘চ্যাট’ নামে পরিচিত বিভিন্ন নেটওয়ার্কে। এটি ব্যবহাকারিদের বন্ধুদের সাথে যোগাযোগের সুযোগ দেয়।

২০১০- ‘প্রজেক্ট টাইটান’ নামে নতুন একটি বার্তা আদান-প্রদান প্রক্রিয়া চালু করা হয় ১৫ই নভেম্বর ২০১০ সালে। কয়েকটি প্রকাশনা এটিকে জিমেইল হত্যাকারি হিসেবে অভিহিত করে। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে ব্যবহারকারিরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে ফেসবুক দিয়ে বিভিন্ন পদ্ধতিতে (যার মধ্যে আছে বিশেষ ইমেইল ব্যবস্থা, লেখ্য বার্তা অথবা ফেসবুক ওয়েবসাইট বা মোবাইল এ্যাপ দিয়ে)। অন্যান্য ফেসবুক বৈশিষ্ট্যের মত ব্যবহারকারি এখানেও কার থেকে বার্তা গ্রহন করবে তা ঠিক করে দিতে পারে। তা হতে পারে শুধু বন্ধু, বন্ধুর বন্ধু অথবা যে কেউ।  ইমেইল সেবাটি ২০১৪ সালে কম ব্যবহারের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়। ফেসবুক ওয়েবসাইট ছাড়াও বার্তাগুলো মোবাইল এ্যাপ থেকে ব্যবহার করা যায়। এর জন্য ফেসবুকের একান্ত একটি এ্যাপ রয়েছে যা ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার নামে পরিচিত।

২০১১- ২০১১ সালের এপ্রিল থেকে ফেসবুক ব্যবহারকারিরা লাইভ ভয়েস কল করতে পারেন ফেসবুক চ্যাট দিয়ে, যা দিয়ে সারা বিশ্বের ব্যবহারকারিরা একে অন্যের সাথে চ্যাট করতে পারেন।

২০১১- ২০১১ সালের ৬ই জুলাই ফেসবুকের ভিডিও কল সেবা চালু করা হয় স্কাইপকে তাদের প্রযুক্তি অংশীদার করে।

২০১১- ২০১১ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর ফেসবুক ব্যবহারকারি পাতায় "সাবস্ক্রাইব" বোতাম যোগ করে যা অন্য ব্যবহারকারিদের সাবস্ক্রাইব করা ব্যবহারকারির উন্মুক্ত পোস্টগুলো দেখার সুযোগ করে দেয়। ২০১২ সালের ডিসম্বরে ফেসবুক ব্যবহারকারিদের দ্বিধার কথা মাথায় রেখে সাবস্ক্রাইব বোতামকে "ফলো" বোতামে প্রতিস্থাপন করে।

 

২০১৪- ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফেসবুক ঘোষনা করে তারা প্রতিদিন ১ বিলিয়ন ভিডিও দেখার সুবিধা প্রদান করবে। কোন ব্যবহারকারি একটি ভিডিও দেখার পর আরেকটি বাড়তি ভিডিও দেখার সুপারিশ করার বিষয়টি ফেসবুক নিশ্চিত করে।

ইন্সটাগ্রাম

ইন্সটাগ্রাম ফেসবুক, টুইটার, টাম্বলার এবং ফ্লিকার এর মত অনলাইনে ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করার এমন একটি অনলাইন মোবাইল ফটো শেয়ারিং, ভিডিও শেয়ারিং এবং সামাজিক নেটওয়ার্কিং পরিসেবা। ইন্সটাগ্রাম এর মাধ্যমে ছবি এবং ১৫ সেকেন্ডের দৈঘ্যের ভিডিও আপলোড করা যায়। প্রতিদিন ৩০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ইন্সটাগ্রাম ব্যবহার করে যারা কিনা ফটো শেয়ার করে থাকে। প্রতিদিন ৭০ মিলিয়ন স্থিরচিত্র এবং ভিডিও শেয়ার করা হয় ইন্সটাগ্রাম এর মাধ্যমে। ইন্সটাগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা কেভিন সিসট্রোম এবং মাইক ক্রিগার। ২০১০ সালে ইন্সটাগ্রাম যাত্রা শুরু করে।

টুইটার

টুইটার সামাজিক আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা ও মাইক্রোব্লগিংয়ের একটি ওয়েবসাইট, যেখানে ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ ১৪০ অক্ষরের বার্তা আদান-প্রদান ও প্রকাশ করতে পারেন। এই বার্তাগুলোকে টুইট (tweet) বলা হয়ে থাকে। টুইটারের সদস্যদের টুইটবার্তাগুলো তাদের প্রোফাইল পাতায় দেখা যায় (যদিনা সদস্য সেটা কে দেখতে পাবে তা বাছাই করেন)। টুইটারের সদস্যরা অন্য সদস্যদের টুইট পড়ার জন্য নিবন্ধন করতে পারেন। এই কাজটিকে বলা হয় অনুসরণ করা বা follow করা। কোনো সদস্যের টুইট পড়ার জন্য যারা নিবন্ধন করেছে, তাদেরকে বলা হয় follower বা অনুসারী।

টুইট লেখার জন্য সদস্যরা সরাসরি টুইটার ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও, মোবাইল ফোন বা এসএমএসের মাধ্যমেও টুইট লেখার সুযোগ রয়েছে। টুইটারের মূল কার্যালয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিস্কো শহরে। এছাড়াও, টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিও এবং ম্যাসাচুসেটসের বস্টনে টুইটারের সার্ভার ও শাখা কার্যালয় রয়েছে।

২০০৬ সালের মার্চ মাসে টুইটারের যাত্রা শুরু হয়। তবে ২০০৬ এর জুলাই মাসে জ্যাক ডর্সি আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন। টুইটার সারা বিশ্ব্জুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ২০১০ সালের ৩১শে অক্টোবর নাগাদ টুইটারে ১৭৫ মিলিয়ন অর্থাৎ ১৭.৫ কোটিরও বেশি সদস্য ছিলো। অন্যান্য পরিসংখ্যান অনুসারে একই সময়ে টুইটারের ১৯০ মিলিয়ন বা ১৯ কোটি সদস্য ছিলো এবং দিনে ৬৫ মিলিয়ন বা সাড়ে ৬ কোটি টুইট বার্তা, এবং ৮ লাখ অনুসন্ধানের কাজ সম্পন্ন হতো। টুইটারকে ইন্টারনেটের এসএমএস বলে অভিহিত করা হয়েছে।

রোবটিক্স

রোবোট (Robot) শব্দটার উৎপত্তি “Robota” মতান্তরে “roboti”] শব্দ থেকে। শব্দটার প্রবক্তা ছিলেন ক্যারেল ক্যাপেক, যিনি বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে সাইন্স ফিকশন লেখার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। ‘Robota’ শব্দটার মানে হল দাস (slave) বা কর্মী (worker)।

বর্তমানে Robot  শব্দটি মোটামুটি একই অর্থ বহন করে। খুব সাধারন ভাবে বললে যে যন্ত্র/স্ট্রাকচার কোন নির্দিষ্ট টাস্ক (কাজ) করতে সক্ষম তাকে রোবোট বলে। “টাস্ক”টা মানুষের মত হাটাহাটি বা সামগ্রিক মানুষের আদলে কাজকর্ম (আসিমো, ASIMO- Advanced Step in Innovative Mobility, HuBo) ছাড়াও খুব সামান্য কিছু ও হতে পারে। যেমন একটা অটোম্যাটিক ডোর, যা মানুষ বা কিছু সেন্স করে নিজে নিজে ওপেন হতে পারে, তাকেও রোবোট বলা হলে খুব ভুল বলা হবেনা, তবে এগুলো কে সাধারনত রোবোট না বলে “intelligent system” বলা হয়। কিন্তু কোন স্ট্রাকচারের মোবিলিটি (mobility)/ মোশন (Motion) , সেন্সিং (sensing ability) আর ইন্টেলিজেন্স (inteligence) থাকলে তাকে রোবোট বলা যায়। একটা খুবই সাধারন চার চাকার গাড়ি, যদি চালক ছাড়া চলতে পারে (নিজেই প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে (able to avoid obstacle )), সেও রোবোট (বড় পরিসরে এগুলোকে বলে Unmanned (air/ground)vehicle-> UGV,UAV )। রোবোট হতে পারে পুরোপুরি অটোনোমাস (স্বয়ংক্রিয়), সেমি-অটোনোমাস(আধা-স্বয়ংক্রিয়), রি-প্রোগ্রামেবল অথবা হিউম্যান কন্ট্রলড।

সরাসরি সংগা দিতে গেলে এরকম দাঁড়ায়, যে ইলেট্রো-মেকানিক্যাল স্ট্রাকচার কোন কাজ করতে সক্ষম, সেই রোবোট। ইন্টিলিজেন্ট রোবোটে বিভিন্ন সেন্সর থাকে। বুদ্ধীমত্তার জন্য এর থাকে একটি সি পি ইউ (CPU)। আর থাকে একচুয়েটর (actuator)। ফিল্ড রোবোটে একচুয়েটর হল মোটর। চাহিদা ও কাজের ধরন অনুযায়ী সেন্সর নির্দিষ্ট করা হয়। সে অনুযায়ী প্রোগ্রাম লেখা হয়, সার্কিট ডিজাইন করা হয়। মটরের টর্ক থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু তৈরির আগে সিমুলেশন করে ঠিক করা হয় এবং ডিজাইন অনুযায়ী বানানো হয়।

রোবোটিক্স মূলত রোবোট কন্ট্রোল ও ডিজাইন নিয়ে কাজ করে। এটাকে ইলেক্ট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, কম্পিউটার, মেকাট্রনিক্স এর সংমিশ্রন বলা যায়। তবে শুরুর জিনিষ গুলো বুঝতে খুব সাধারন আগ্রহ থাকাই যথেষ্ট।

একটি সাধারণ রোবটে নিচের উপাদানগুলো থাকে-

১. পাওয়ার সিস্টেমঃ সাধারণত রোবটের পাওয়ার দেওয়া হয় লেড এসিড রিচার্জেবল ব্যাটারী দিয়ে।

২. অ্যাকচুয়েটরঃ অ্যাকচুয়েটর হল রোবটের হাত-পা অথবা বিশেষভাবে তৈরি কোন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নাড়াচাড়া করার জন্য কতকগুলো বৈদ্যুতিক মোটরের সমন্বয়ে তৈরি বিশেষ ব্যবস্থা।

৩. অনুভূতিঃ সেন্সরের মাধ্যমে রোবটে মানুষের মতো অনুভূতি তৈরি করা হয়।

৪. ম্যানিপিউলেশনঃ ম্যানিপিউলেশন হল রোবটের আশেপাশের বস্তুগুলোর অবস্থান পরিবর্তন বা বস্তুতিকে পরিবর্তন করার পদ্ধতি।

 

সাইবার অপরাধ

"সাইবার ক্রাইম" বলতে ইন্টারনেট ব্যবহার করে যে অপরাধ করা হয়, তাকেই বোঝানো হয়েছে | উন্নত বিশ্বে সাইবার অপরাধকে অপরাধের তালিকায় শীর্ষে স্থান দেয়া হয়েছে | তৈরি করা হয়েছে সাইবার অপরাধীদের জন্য নতুন নতুন আইন | বর্তমান বিশ্বে বহুল আলোচিত কয়েকটি সাইবার ক্রাইম হলো - ১.সাইবার পর্ণোগ্রাফী ২. হ্যাকিং ৩. স্প্যাম ৪. বোমাবাজি ৫. এ্যাকশান গেম ইত্যাদি | বাংলাদেশে সাইবার ক্রাইমের পরিচিতি বা এ সংক্রান্ত অপরাধ দমনের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনটি অনেকেরই জানা নেই | তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ আমাদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয় |

তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০৬-এর ৫৬ ধারায় বলা হয়েছে,
(১) যদি কোনো ব্যক্তি জনসাধারণের বা কোনো ব্যক্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে বা ক্ষতি হবে মর্মে জানা সত্ত্বেও এমন কোনো কাজ করেন, যার ফলে কোনো কম্পিউটার রিসোর্সের কোনো তথ্যবিনাশ, বাতিল বা পরিবর্তিত হয় বা তার মূল্য বা উপযোগিতা হ্রাস পায় বা অন্য কোনোভাবে একে ক্ষতিগ্রস্ত করে |
(২) এমন কোনো কম্পিউটার সার্ভার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক সিস্টেমে অবৈধভাবে প্রবেশ করার মাধ্যমে এর ক্ষতিসাধন করেন যাতে তিনি মালিক বা দখলদার নন, তাহলে তাঁর এই কাজ হবে একটি হ্যাকিং অপরাধ | কোনো ব্যক্তি হ্যাকিং অপরাধ করলে তিনি অনূর্ধ্ব ১০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন | এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন বা উভয়দণ্ড দেওয়া যেতে পারে | তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০৬-এর ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারে বা যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানি প্রদান করা হয়, তাহলে তার এই কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে |

বিভিন্ন ধরণের সাইবার অপরাধ-

হ্যাকিং: হ্যাকিং একটি প্রক্রিয়া যেখানে কেউ কোন বৈধ অনুমতি ছাড়া কোন কম্পিউটার বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে। যারা এ হ্যাকিং করে তারা হচ্ছে হ্যাকার। এরা যে সিস্টেম হ্যাকিং করবে ঐ সিস্টেমের গঠন, কার্য প্রনালী, কিভাবে কাজ করে সহ সকল তথ্য জানে।

স্প্যামিং: ইমেইল অ্যাকাউন্টে প্রায়ই কিছু কিছু অচেনা ও অপ্রয়োজনীয় ইমেইল পাওয়া যায় যা আমাদের বিরক্তি ঘটায়। এ ধরণের ইমেইলকে সাধারণত স্প্যাম বলে।

সাইবার হয়রানিঃ ইমেইল বা ব্লগ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে হুমকি দেওয়া, ব্যক্তির নামে মিথ্যাচার বা অপপ্রচার, নারী অবমাননা, যৌন হয়রানি প্রভৃতি সাইবার হয়রানির অন্তর্ভুক্ত।

সাইবার আক্রমণঃ সাইবার আক্রমণ এক ধরণের ইলেক্ট্রনিক আক্রমণ যাতে ক্রিমিনালরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্য কারো সিস্টেমে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করে ফাই, প্রোগ্রাম বা হার্ডওয়্যার ধ্বংস বা ক্ষতিসাধন করে।

ফিশিং: লগ ইন বা অ্যাকসেস তথ্য চুরি বিশেষত ই-কমার্স বা ই-ব্যাংকিং সাইটগুলো ফিশারদের লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকে।

পাইরেসিঃ সদ্য প্রকাশিত জ্ঞান বা সিনেমার এমপিথ্রি বা মুভি ফাইল ইন্টারনেটে শেয়ার হওয়াকে পাইরেসি বলে।

ব্লুটুথ

ব্লুটুথ ক্ষুদ্র পাল্লার জন্য প্রণীত একটি ওয়্যারলেস প্রোটোকল। এটি ১-১০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে ওয়্যারলেস যোগাযোগের একটি পদ্ধতি। ব্লুটুথ-এর কার্যকরী পাল্লা হচ্ছে ১০ মিটার। তবে বিদ্যুৎ কোষের শক্তি বৃদ্ধি করে এর পাল্লা ১০০ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে। ব্লুটুথ ২.৪৫ গিগাহার্টজ-এ কাজ করে। ৯০০ খ্রীস্টাব্দের পরবর্তী সময়ের ডেনমার্কের রাজা Harald Bluetooth-এর নামানুসারে এই প্রযুক্তির নামকরণ করা হয়েছে। ব্লুটুথ ১.০-এর তথ্য আদান-প্রদান-এর সর্বোচ্চ গতি ছিল সেকেন্ডে ১ মেগাবিট। বর্তমানে ব্লুটুথ ২.০-এর সর্বোচ্চ গতি হল সেকেন্ডে ৩ মেগাবিট।

ব্লুটুথ প্রোটোকল বাস্তবায়নকারী যন্ত্রাংশ বা ডিভাইসগুলি দ্বিমুখী সংযোগ স্থাপন করে কাজ করে। বর্তমানে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, গেমিং কনসোল, ডিজিটাল ক্যামেরা, প্রিন্টার, ল্যাপটপ, জিপিএস রিসিভার প্রভৃতি যন্ত্রাদিতে ব্লুটুথ প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। এই প্রযুক্তিতে খুব কম বিদ্যুৎ খরচ হয়। এটি ক্ষুদ্র পাল্লার বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়।

ওএসআই মডেল

এক কম্পিউটার আরেক কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ এর মূল উদ্দেশ্য হলো তথ্য শেয়ার করা। মনেকরি  দু্ইটি কম্পিউটার ভিন্ন স্থানে অবস্থিত এবং এই দুইটি কম্পিউটার তথ্য আদান প্রদান করতে চায়। তাহলে একটি কম্পিউটার যখন ডাটা সেন্ড করবে তখন ডাটা অনেকগুলো মিডিয়া হয়ে ডেস্টিনেশন কম্পিউটারে পেৌছাবে।সোর্স থেকে ডেস্টিনেশনে যাওয়ার সময় ডাটা যেন কোন সমস্যা না হয় মানে ত্রুটি মুক্ত ভাবে পেৌঁছাতে পারে সে জন্য কিছু রূল নির্ধারন করা আছে। এই নিয়মকানুনগুলোকেই বলা হয় প্রটোকল। আর এই প্রটোকলগুলোর সমন্বয়ে যে মডেলটি তৈরি করা হয়েছে এই মডেলটিকেই বলা হয় OSI model. এই মডেলটি নির্ধারণ করেন ISO.

ওএসআই মডেলকে সাতটি লেয়ার বা স্তরে ভাগ ভাগ করা হয়। এর স্তরসমূহ হলো :

  • এপ্লিকেশন
  • প্রেজেন্টেশন
  • সেশন
  • ট্রান্সপোর্ট
  • নেটওয়ার্ক
  • ডাটালিংক
  • ফিজিক্যাল

৭. এপ্লিকেশন লেয়ার :

এটি হলো ওএসআই মডেলের সপ্তম লেয়ার। এপ্লিকেশন লেয়ার ইউজার ইন্টারফেস প্রদান করে এবং নেটওয়ার্ক ডাটা প্রসেস করে।এপ্লিকেশন লেয়ার যে কাজ গুলো করে থাকে রিসোর্স শেয়ারিং, রিমোট ফাইল একসেস, ডিরেক্টরী সার্ভিস ইত্যাদি। এপ্লিকেশন লেয়ারের কিছু প্রটোকল এর পোর্ট এড্রেস দেওয়া হলো

প্রটোকলএফটিপিটিএফটিপিটেলনেটডিএইচসিপিডিএনএসপপআইম্যাপএসএমটিপিএইচটিটিপি
পোর্ট এড্রেস২০/২১৬৯২৩৬৭/৬৮৫৩১১০১৪৩২৫৮০

পোর্ট নাম্বারগুলো মনে রাখার চেষ্টা করতে হবে। কারণ সিসিএনএ পরীক্ষায় সাধারণত এ ধরনের প্রশ্ন থাকে , যেমন  এইচটিটিপি এর পোর্ট নাম্বার কত?

৬.প্রেজেন্টেশন লেয়ার :

এই লেয়ার নেটওয়ার্ক সার্ভিসের জন্য ডাটা ট্রান্সলেটর হিসেবে কাজ করে। এই লেয়ার যে কাজ গুলো করে থাকে ডাটা কনভার্শন,ডাটা কমপ্রেশন, ডিক্রিপশন ইত্যাদি। এই লেয়ারে ব্যবহিত ডাটা ফরম্যাট গুলো হলো .জেপিজি, .এমপিইজি ইত্যাদি।

৫. সেশন লেয়ার :

সেশন লেয়ারের কাজ হলো উৎস এবং গন্তব্য ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ গড়ে তোলা , সেই সংযোগ কন্ট্রোল করে এবং প্রয়োজন শেষে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা। ডাটা পাঠানোর জন্য ৩ ধরনের কন্ট্রোল ব্যবহার করা হয় ।

  • সিম্পলেক্স : সিম্পলেক্স এ ডাটা একদিকে প্রবাহিত হয়।
  • হাফ ডুপ্লেক্স :  হাফ ডুপ্লেক্স পদ্ধতিতে একদিকের ডাটা প্রবাহ শেষ হলে অন্যদিকের ডাটা অন্য দিকের ডাটা প্রবাহিত হয়ে থাকে।
  • ফুল ডুপ্লেক্স : ফুল ডুপ্লেক্স পদ্ধতিতে একইসাথে উভয়দিকে ডাটা প্রবাহিত হতে পারে।

৪. ট্রান্সপোর্ট লেয়ার :

ওএসআই মডেলের চতুর্থ লেয়ার ট্রান্সপোর্ট লেয়ার । এই লেয়ারের কাজ হলো সেশন লেয়ারের কাছ থেকে পাওয়া পাওয়া ডাটা নির্ভরযোগ্যভাবে অন্য ডিভাইসে পৌছানো নিশ্চিত করে। এই লেয়ারে ডাটা পৌছানোর জন্য দু’ধরনের ট্রান্সমিশন ব্যবহার করে:

  • কানেকশন ওরিয়েন্টেড

কানেকশন ওরিয়েন্টেড এ ডাটা পাঠানোর আগে প্রেরক গ্রাহক এর সাথে একটি একুনলেজ সিগন্যাল এর মাধ্যাম কানেকশন তৈরি করে থাকে। ইহা টিসিটি এর ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।

  • কানেকশনলেস

কানেকশনলেস ওরিয়েন্টেড এ ডাটা পাঠানোর আগে প্রেরক গ্রাহক এর সাথে কোন একুনলেজ সিগন্যাল এর মাধ্যাম কানেকশন তৈরি করে থাকে না। ইহা ইউডিপি এর ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।

৩. নেটওয়ার্ক লেয়ার :

নেটওয়ার্ক লেয়ারের কাজ হলো এড্রেসিং ও প্যাকেট ডেলিভারি। এই লেয়ারে ডাটা প্যাকেটে নেটওয়ার্ক এড্রেস যোগ করে এনক্যাপসুলেশনের মাধ্যমে।এই লেয়ারে রাউটার ব্যবহিত হয়ে থাকে এবং রাউটিং টেবিল তৈরি করে থাকে।

২. ডাটালিংক লেয়ার :

এটি হলো ওএসআই মডেলের ২য় লেয়ার। ডাটালিংক লেয়ারের কাজ হলো ফিজিক্যাল লেয়ারের মাধ্যমে এক ডিভাইস থেকে আরেক ডিভাইসে ডাটাগ্রামকে ক্রটিমুক্তভাবে প্রেরণ করা। এই লেয়ার দুটি ডিভাইসের মধ্যে লজিক্যাল লিংক তৈরি করে।  এই লেয়ারে ডাটাকে ফ্রেম এ পরির্বতন করে।

১. ফিজিক্যাল লেয়ার :

ওএসআই মডেলের সর্ব নীচের লেয়ার হলো ফিজিক্যাল লেয়ার । এই লেয়ার ঠিক করে কোন পদ্ধতিতে এক ডিভাইসের সাথে আরেক ডিভাইসে সিগন্যাল ট্রান্সমিট হবে, ইলেকট্রিক সিগন্যাগ বা ডাটা বিট ফরম্যাট কি হবে ইত্যাদি। এই লেয়ারে ডাটা বিট টু বিট ট্রান্সফার হয়ে থাকে। এই লেয়ারে ব্যবহিত ডিভাইস গুলো হলো হাব, সুইজ ইত্যাদি।

ডেটা কমিউনিকেশন

একটি কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে অথবা একটি ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইস যেমন- মোবাইল, স্মার্টফোন, পার্সোনাল ডিজিটাল অ্যাসিসটেন্ট জিপিএস নেভিগেটের ইত্যাদির মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান বা তথ্যের বিনিময়কে ডেটা কমেউনিকেশন বা ডেটার স্থানান্তর বলা হয়। ডেটা স্থানান্তর যেকোনো একটি পর্যায়ে কম্পিউটার সরাসরি যুক্ত থাকে। আধুনিক ডেটা কমিউনিকেশনের প্রধান উপাদান হলো কম্পিউটার এবং ডেটা ট্রান্সমিশন সিস্টেম। কম্পিউটারকে বলা হয় ডেটা প্রসেসিং ডিভাইস এবং প্রসেসকৃত ডেটা একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়ার প্রক্রিয়া হলো ট্রান্সমিশন সিস্টেম ।

একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো চ্যানেল দিয়ে যে পরিমাণ ডেটা স্থানান্তরিত হয় তার পরিমাণকে ব্যান্ড উইডথ হিসেবে পরিমাপ করা হয়।
ডেটা ট্রান্সফার গতির উপর ভিত্তি করে ডেটা কমিউনিকেশন স্পীডকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- (১) ন্যারোব্যান্ড, (২) ভয়েস ব্যান্ড ও (৩) ব্রডব্যান্ড।

ন্যারোব্যান্ড   (Narrow band) : এ ডেটা ট্রান্সমিশন সাধারণত ৪৫ থেকে ৩০০ bit per second (bps) হয়ে থাকে। ধীর গতির ডেটা ট্রান্সমিশন যেমন- টেলিফোন ক্ষেত্রে এ ব্যান্ডটির ব্যবহারের আধিক্য দেখা যায়। টেলিফোনের ক্ষেত্রে এ ন্যারোব্যান্ড ৩০০-৪০০ হার্জ ফ্রিকুয়েন্সি প্রদান করে।

ভয়েজ ব্যান্ড (Voice band): এর গতি সাধারণত ৯৬০০bps পর্যন্ত হয়ে থাকে । টেলিফোন লাইনে ভয়েস ব্যান্ড সর্বাধিক ব্যবহৃত হয় যেখানে তথ্য স্থানান্তরের ফ্রিকুয়েন্সি ২০০-৩৬০০ হার্জ। কম্পিউটার থেকে প্রিন্টার অথবা কার্ড রিডার থেকে কম্পিউটারে ডেটা স্থানান্তরে ভয়েস ব্যান্ড ব্যবহৃত হয়।

ব্রডব্যান্ড  (Broad band): মূলত উচ্চ গতিসম্পন্ন ডেটা স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। এই গতি 1 mbps এর বেশি হয়ে থাকে বলে এরা অধিক তথ্য বহনের ক্ষমতা রাখে। ব্রডব্যাড ডিজিটাল সাবস্ক্রাইবার লাইন, রেডিওলিঙ্ক, অপটিক্যাল ফাইবার, মাইক্রোওয়েভ।

 

ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড

এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ডেটা পাঠানোর সময় দুটি কম্পিউটারের মধ্যে সমঝোতা থাকা প্রয়োজন যাতে প্রতিটি সিগন্যালের শুরু ও শেষ বুঝতে পারে।
ডেটা ট্রান্সমিশনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন
বিটের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এ বিশেষ পদ্ধতিকে বিট সিনক্রোনাইজেশন বলে। সিনক্রোনাইজেশনের ওপর ভিত্তি করে ডেটা ট্রান্সমিশন মেথডকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা
অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন (Asynchronous Transmission)
সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন (Synchronous Transmission)
আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশন (Isochronous Transmission)
অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন: এই পদ্ধতির ডেটা ট্রান্সমিশনে প্রেরক হতে গ্রাহকে ক্যারেক্টার বাই ক্যারেক্টার ডেটা ট্রান্সমিট করা হয়। ফলে পর পর দুটি ক্যারেক্টার প্রেরণের মাঝের বিরতি সব সময় সমান হয় না, এ কারণেই এর নামকরণ করা হয়েছে অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন মেথড।

সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন: এই পদ্ধতিতে ডেটা ট্রান্সমিশনের পূর্বে ডেটাকে প্রাইমারি স্টোরেজ ডিভাইসে সংরক্ষণ করা হয় এবং সমান বিরতিতে প্রতিবারে ৮০ থেকে ১৩২ ক্যারেক্টারের একটি ব্লক তৈরি করে ট্রান্সমিট করা হয়।
এ কারণেই এর নামকরণ করা হয়েছে সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন।

আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশন: আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশন সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের উন্নত সংস্করণ। এই পদ্ধতিতে প্রায় কোনো বিরতি ছাড়াই ডেটা ট্রান্সমিট করা হয়।

 

ডেটা ট্রান্সমিশন মোড ( Data Transmission Mode)

কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে ডেটা কমিউনিকেশনস-এর সময় ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ডেটার প্রবাহকে ডেটা ট্রান্সমিশন মোড হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ডেটা স্থানান্তরের প্রবাহের উপর ভিত্তি করে অর্থাৎ দিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ডেটা ট্রান্সমিশন মোডকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-

    ইউনিকাস্ট (Unicast)

    ব্রডকাস্ট (Broadcast)

    মাল্টিকাস্ট (Multicast)

    ইউনিকাস্ট (Unicast) : যে ট্রান্সমিশনস -এর পদ্ধতিতে একজন প্রেরক ও একজন প্রাপকের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান হয়ে থাকে, তাকে ইউনিকাস্ট মােড বলা হয়।

ব্রডকাস্ট (Broadcast): এ ট্রান্সমিশন ব্যবস্থায় নেটওয়ার্কভূক্ত কোনো একটি কম্পিউটার বা নোড হতে ডেটা ট্রান্সমিট হলে নেটওয়ার্কভুক্ত সকল নোডই তা গ্রহণ করতে সক্ষম হয়। উদাহরণ হিসেবে টেলিভিশন, রেডিও সম্প্রচারের কথা বলা যেতে পারে। টেলিভিশনে কোনো অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হলো তা সকল টেলিভিশন বা গ্রাহক যন্ত্র একই সাথে গ্রহণ করতে পারে।

 মাল্টিকাস্ট‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌ (Multicast):  এটি এমন একটি ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতি যেখানে কোনো কম্পিউটার বা নোড হতে ডেটা টান্সমিট করলে গ্রুপভুক্ত কেবল অনুমোদিত নোড বা নোডসমূহই  তা গ্রহণ করতে পারবে। নেটওয়ার্কভূক্ত যেকোনো নোডকে এ ব্যবস্থায় ডেটা গ্রহণ হতে বিরত রাখা যায়। উদাহরণ হিসেবে টেলিকনফারেন্সিং এবং ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। টেলিকনফারেন্সিংয়ে অংশগ্রহণরত ব্যক্তিদের মধ্যে কেবল নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ছাড়া অন্যরা এতে অ্যাকসেস করার সুযোগ পায়।

 

ডেটা প্রবাহের দিকের ওপর ভিত্তি করে ডেটা ট্রান্সমিশন মোডকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমনঃ

১. একমুখী প্রথা বা সিমপ্লেক্স মোড

২. অর্ধ দ্বিমুখী প্রথা বা হাফ ডুপ্লেক্স মোড ও

৩. উভয়মুখী প্রথা বা ফুল ডুপ্লেক্স মোড।

সিমপ্লেক্স (Simplex) : ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ডেটার একমুখী প্রবাহকে সিমপ্লেক্স মোড বলা হয়। এ পদ্ধতিতে একটি কম্পিউটার সবসময় অন্য কম্পিউটারে ডেটা পাঠায়, অপরটি ডেটা গ্রহন করে। উদাহরণ- PABX সিস্টেম, রেডিও।

হাফ-ডুপ্লেক্স (Half-Duplex): এ পদ্ধতিতে ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে উভয় দিকে থেকে ডেটা প্রেরণ করা যায় তবে একই সময়ে তা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে কোন প্রান্ত একই সময় কেবল ডেটা গ্রহন প্রেরণ করতে পারে, কিন্তু গ্রহন এবং প্রেরণ একই সময়ে করতে পারে না। উদাহরণ- ওয়াকিটকি।

ফুল-ডুপ্লেক্স : (Full- Duplex): এ পদ্ধতিতে ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে উভয় দিক থেকে একই সময়ে ডেটা প্রেরণ ও গ্রহণ করা যায়। এক্ষেত্রে কোনো প্রান্ত একই সময়ে ডেটা প্রেরণ করার সময় ইচ্ছে করলে গ্রহণও করতে পারে। উদাহরণ- টেলিফোন, মােবাইল।

 

 

মডেম

মডেম হল একটি যন্ত্র যা একটি প্রেরিত এনালগ সংকেতকে ডিজিটাল তথ্যে রূপান্তর করে এবং ডিজিটাল তথ্যকে পাঠানোর সময় এনকোড করে এনালগ সংকেত হিসেবে প্রেরণ করে। এর উদ্দেশ্য হল সহজে সংকেত পাঠানো এবং তা আবার একই রকমভাবে অন্য প্রান্তে পাওয়া। ট্রান্সমিশন বা প্ররণের অর্থে যেকোন কাজে মডেম ব্যবহার করা যায় রেডিও থেকে ডাইওড পর্যন্ত।

ইন্টারনেট ওয়াকিং

রাউটার

রাউটার হচ্ছে একটি নেটওয়ার্কিং ডিভাইস যা বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে ডাটা প্যাকেট তার গন্তব্যে কোন পথে যাবে তা নির্ধারণ করে। রাউটার ইন্টারনেটে “ট্রাফিক ডিরেক্টিং” এর কাজ সম্পন্ন করে। সাধারণভাবে, একাধিক নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত আন্তঃ নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে একটি ডাটা প্যাকেটকে এক রাউটার থেকে অন্য রাউটারে পাঠানো হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না এটি গন্তব্য নোডে পৌঁছে।

গেটওয়ে

গেটওয়ে হলো এমন ধরণের যন্ত্র যেগুলো ভিন্ন ভিন্ন নেটওয়ার্ককে যুক্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। রাউটার, হাব, ব্রিজ, সুইচ ইত্যাদি যন্ত্র প্রটোকল ট্রান্সলেশনের সুবিধা দেয় না, কিন্তু গেটওয়ে এই সুবিধা দেয়। কোন ধরণের ট্রান্সলেশনের সুবিধা দিচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে এটি OSI, রেফারেন্স মডেলের সকল স্তরে কাজ করতে পারে। তবে বেশিরভাগ গেটওয়ের কাজই ঘটে থাকে OSI মডেলের উপরের স্তরে অর্থাৎ এ্যাপ্লিকেশন, প্রেজেন্টেশন, সেশন ও ট্রান্সপোর্ট লেয়ারে।

রিপিটার(REPEATER)

নেটওয়ার্ক ট্রান্সমিশন মিডিয়ার মধ্যে দিয়ে যখন ইলেকট্রনিকম্যাগনেটিক ওয়েব চলতে থাকে তখন মিডিয়া সিগন্যালকে দুর্বল করে ফেলে । দুর্বল করার এই সিস্টেমকে বলা হয় এটিনিউয়েশন । এটিনিউয়েশন মিডিয়ার মধ্যে চলাচল কারী সিগন্যালের অতিক্রম যোগ্য সীমানরইপরিমান ঠিক করে দেয় । এটিনিউয়েশন সংক্রান্ত বাধা দূর করার জন্য রিপিয়ার ব্যবহার করা হয় ।


ব্রিজ(BRIGE)

নন- রাউট্যাবল প্রোটোকলের ক্ষেত্রে সিগন্যালকে এক সেগমেন্ট থেকে অন্য সেগমেন্ট পাঠাতে ব্রিজ ব্যবহার হয়। ব্রিজ ছোট খাটো নেটওয়ার্কের জন্য অনেক কার্যকারী কানেকটিভিটি ডিভাইস ।

হাব (HUB)

হাবের অন্য নাম হচ্ছে সুইচ । হাব নেটওয়ার্কের একটি অতন্ত্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা স্টার টপোলজিতে একটি কেন্দ্রিয় ডিভাইস হিসেবে কাজ করে । বর্তমানে হাবের পরিবর্তে সুইচ ব্যবহার হচ্ছে । সুইচের সাথে হাবের পার্থক্য হচ্ছে সুইচ তার টার্গেট পোর্টে সরাসরি আঘাত করে কিন্তু হাব তার টার্গেট পোর্ট ছাড়াও অন্যান্য পোর্টেও আঘাত করে । এক্ষেত্রে টার্গেট পোর্ট সিগন্যাল গ্রহণ করে এবং অন্যান্য পোর্ট গুলো তা অগ্রাহ্য করে ।

সুইচ

নেটওয়ার্ক সুইচ আর নেটওয়ার্ক হাব কম্পিউটার নেটওয়ার্কি এর মুল স্তম্ভ। নেটওয়ার্কিং এর ক্ষেত্রে সুইচ হলো এমন একটি যন্ত্র যা লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে তথ্য প্যাকেট আদানপ্রদানের সময় ফিল্টারিং এবং প্যাকেট ফরোয়ার্ডিং করতে পারে। সুইচ ওএসআই লেয়ারের অন্যতম ডাটা লিঙ্ক লেয়ারে কাজ করে। তবে কখনো কখনো এটি নেটওয়ার্ক লেয়ারেও কাজ করে। যেসব লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (ল্যান) তাদের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগের জন্য সুইচ ব্যবহার করে তাদের বলা হয় সুইচড ল্যান।

অপটিক্যাল ফাইবার

অপটিক্যাল ফাইবার একধরনের পাতলা, স্বচ্ছ তন্তু বিশেষ, সাধারণত কাচ অথবা প্লাস্টিক দিয়ে বানানো হয়, যা আলো পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। ফাইবার অপটিকস ফলিত বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের সেই শাখা যা এই অপটিক্যাল ফাইবার বিষয়ে আলোচনা করে।

অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে লম্বা দুরত্বে অনেক কম সময়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য পরিবহন করা যায়। অপটিক্যাল ফাইবারের আরো অনেক সুবিধার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- এই ব্যবস্থায় তথ্য পরিবহনে তথ্য ক্ষয় কম হয়, তড়িৎ-চুম্বকীয় প্রভাব থেকে মুক্ত ইত্যাদি।

অপটিক্যাল ফাইবার সাধারণত টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া আলোকসজ্জা, সেন্সর ও ছবি সম্পাদনার কাজেও বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশ্বগ্রাম

Global Village এর অর্থ হলো বৈশ্বিক গ্রাম বা বিশ্বায়ন। Marshall McLuhan তার বই The Gutenberg Galaxy: The Making of Typographic man (1962) and Understanding Media (1964) তে প্রথম বিশ্বগ্রামের ধারনা দেন।গ্লোবাল ভিলেজ বা বৈশ্বিক গ্রাম হলো Marshall McLuhan কর্তৃক উদ্ভাবিত একটি টার্ম সাথে সংযুক্ত করেছে। তার মতে " ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সারা বিশ্বকে একটি গ্রামে পরিণত করাই হল
বিশ্বগ্রাম। যার মাধ্যমে খুব সহজেই পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের মানুষের সাথে মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ
করা সম্ভব। " এখানে ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি বলতে ইন্টারনেটকে বুঝানো হয়েছে।সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জাতিগোষ্ঠীকে একটি ছাতার নিচে নিয়ে আসা হলো গ্লোবাল ভিলেজবা বিশ্বগ্রাম। বিষয়টিকে আর একটু পরিষ্কার করা যেতে পারে যেমন ধর কোন একটি অঞ্চলের অথবা দেশের অধিবাসীরা যেমন নিজেদের
মধ্যে ভাবের আদান প্রদানে নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ থাকে ঠিক তেমনি সারা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী ইন্টারনেট কিংবা স্যাটেলাইট টেলিভিশন ইত্যাদির মাধ্যমে একটি একক সম্প্রদায় তথা যৌথ সমাজ হিসেবে আবদ্ধ হতে পারে। আর এটিই হলো গ্লোবাল ভিলেজ বা বৈশ্বিক গ্রাম।

বায়োমেট্রিক্স

বায়োমেট্রিক্স হলো বায়োলজিক্যাল ডেটা মাপা এবং বিশ্লেষণ করার বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি। গ্রীক শব্দ “bio” (life) ও “metric” (to measure) থেকে উৎপত্তি হয়েছে (Biometrics)  বায়োমেট্রিক্স।  তথ্য প্রযুক্তিতে বায়োমেট্রিক্স হল সেই প্রযুক্তি যা মানুষের দেহের বৈশিষ্ট যেমনঃ ডিএনএ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, চোখের রেটিনা এবং আইরিস, কণ্ঠস্বর, চেহারা এবং হাতের মাপ ইত্যাদি মেপে এবং বিশ্লেষণ করে বৈধতা নির্নয় করে। কম্পিউটার পদ্ধতিতে নিখুঁত নিরাপত্তার জন্য বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি ব্যাবহারিত হয়। এ পদ্ধতিতে মানুষের বায়োলজিক্যাল ডেটা কম্পিউটারের ডেটাবেজে সংরক্ষিত করে রাখা হয় এবং পরবর্তিতে এসব ডেটা নিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলিয়ে দেখা হয়। ডেটাতে মিল পেলে বৈধ বলে বিবেচিত হয় এবং অনুমতি প্রাপ্ত হয়।

বর্তমানে নিরাপত্তার কাজে বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি ব্যাপকভাবে ব্যাবহারিত হচ্ছে। এ প্রযুক্তি সাধারণত দুই ধরনের কাজে ব্যাবহারিত হয়। যেমন – ১। ব্যাক্তি সনাক্তকরণ (Identification) ২। সত্যতা যাচাই (Verification)

বর্তমানে সবচেয়ে বেশী প্রচলিত বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিগুলো হল – ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার ( Finger reader), ফেইস রিকগনিশন (Face recognition), হ্যান্ড জিওমেট্রি (Hand Geometry), আইরিস এবং রেটিনা স্ক্যান(Iris and Retina Scan), ভয়েস রিকগনিশন (Voice Recognition) ও সিগনেচার ভেরিফিকেশন (Signature Verification)।

ভাচুর্য়াল রিয়েলিটি

ভাচুর্য়াল রিয়েলিটি হচ্ছে প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তবের চেতনার উদ্যোগকারী বিজ্ঞাননির্ভর কল্পনাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা অনুভবের বাস্তবতা কিংবা কল্পবাস্তবতা বলে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হচ্ছে কম্পিউটারনিয়ন্ত্রিত সিস্টেম, যাতে মডেলিং ও অনুকরণবিদ্যা প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষ কৃত্রিম ত্রিমাত্রিক ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পরিবেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন বা উপলব্ধি করতে পারে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে অনুকরণকৃত পরিবেশ হুবহু বাস্তব পৃথিবীর মতো হতে পারে। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। আবার অনেক সময় অনুকরণকৃত বা সিম্যুলেটেড পরিবেশ বাস্তব থেকে আলাদা হতে পারে। যেমন: ভার্চুয়াল রিয়েলিটি গেমস। এতে ত্রিমাত্রিক ইমেজ তৈরির মাধ্যমে অতি অসম্ভব কাজও করা সম্ভব হয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ব্যবহারকারী সম্পূর্ণরূপে একটি কম্পিউটারনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নিমজ্জিত হয়ে যায়।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স

মানবসৃষ্ট machine এ software বা program যখন মানুষের মত কমন সেন্স এবং যুক্তিপূর্ণ চিন্তা ভাবনা প্রদর্শন করে, সোজা কথায় তাকেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (Artificial Intelligence) বলে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর একজন নামকরা গবেষক Allan Turing ১৯৫০ সালে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (Artificial Intelligence) determine করার একটি পদ্ধতি আবিস্কার করেন, একে The Turing test বলে। এ পদ্ধতি অনুযায়ী একজন লোক একটি কম্পিউটার ও একজন মানুষ কে একই ধরনের কিছু প্রশ্ন করে কে মানুষ আর কে কম্পিউটার টা বুঝার চেষ্টা করে। এমতাবস্থায় কম্পিউটার টা যদি লোকটাকে তার উত্তরের মাধ্যমে নিজেকে মানুষ হিসেবে recognised করাতে পারে, তাহলেই সেই কম্পিউটার কে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (Artificial Intelligence) বলা যাবে। ১৯৫৫ সালে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ পরিভাষাটি উদ্ভাবন করেন জন ম্যাকার্থি।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং

১৯৭২ সালে পল বার্গের রিকম্বিনেন্ট আবিষ্কার করেন ডিএনএ টেকনোলজি বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর। প্রাণ রসায়ণের সবচেয়ে আধুনিক এ শাখায় জীবনকে সংজ্ঞায়িত করা হয় অণু-পরমাণু পর্যায়ে, একে বলা হয় "The Molecular Logic Of Life"। A-T-C-G এই মাত্র চারটি হরফে লেখা এ বিষয়কে বলা হয় Language of GOD। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং মূলত ট্রান্সজেনিক (উন্নত বৈশিষ্টধারী) উদ্ভিদ ও প্রাণী সৃষ্টিতে কাজ করে। নামের শেষে ইঞ্জিনিয়ারিং যোগ করার কারণ হচ্ছে, জীববিজ্ঞানের কেবলমাত্র এ শাখাটিতেই নিজের ইচ্ছামত ডিজাইন করে একটি প্রাণী সৃষ্টি করা যায়, ডিজাইন করা যায় নিজের পছন্দের ই.কোলাই যে কিনা নিজের কথামত উঠবে বসবে। কাজটা অনেকটা একটা কম্পউটার প্রোগ্রাম ডিজাইন করার মতো।

বায়োইনফরম্যটিক্স

কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে জীববিজ্ঞান সম্পর্কিত তথ্য ব্যবস্থাপনাকে বায়োইনফরম্যাট্রিক্স বলে। এ ব্যবস্থায়  কম্পিউটার ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং জৈবিক ও জেনেটিক তথ্য একত্রীকরণ করে জিন ভিত্তিক ঔষধ আবিষ্কার এবং উন্নয়ন করা হয়। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল জীববিদ্যা সম্পর্কীয় জ্ঞান উন্নয়নের জন্য সফট্ওয়্যার টুল তৈরি করা। বায়োইনফরম্যাট্রিক্স জীববিদ্যা সংক্রান্ত তথ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য কম্পিউটার সায়েন্স, গণিত এবং প্রকৌশল বিদ্যার বিভিন্ন ক্ষেত্রকে ব্যবহার করে। মূলত স্ট্যাটিসটিকস, বায়োলজি, প্রোগ্রামিং, ডেটাবেজ এই সব বিষয়ের জ্ঞান সম্মিলিতভাবে বায়োইনফরম্যাট্রিক্স-এ ব্যবহার হয়।

ন্যানোটেকনলজি বা ন্যানোটেক

ন্যানোটেকনলজি পদার্থকে আণবিক পর্যায়ে পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ করবার বিদ্যা। সাধারণত ন্যানোপ্রযুক্তি এমন সব কাঠামো নিয়ে কাজ করে যা অন্তত একটি মাত্রায় ১০০ ন্যানোমিটার থেকে ছোট। ন্যানোপ্রযুক্তি বহুমাত্রিক, এর সীমানা প্রচলিত সেমিকন্ডাকটর পদার্থবিদ্যা থেকে অত্যাধুনিক আণবিক স্বয়ং-সংশ্লেষণ প্রযুক্তি পর্যন্ত; আণবিক কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ থেকে নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ন্যানোপদার্থের উদ্ভাবন পর্যন্ত বিস্ত্রৃত। রিচার্ড ফাইনম্যানকে ন্যানোপ্রযুক্তির জনক বলা হয়

ক্রায়াসার্জারী

ক্রায়োসার্জারী হলো এমন একটা সার্জারি যেখানে সর্বাধিক পরিমান ঠাণ্ডা ব্যবহার করা হয় মানুষের শরীরের অস্বাভাবিক কোষের কার্যকারিতা অথবা সেই কোষ টাকে বিনষ্ট করে ফেলার জন্য । স্বাধারনত টিউমার, ক্যান্সার এবং চর্ম সমস্যার ক্ষেত্রে এই ধরনের সার্জারির প্রয়োগ হয়ে থাকে। এই ধরনের সার্জারিতে স্বাধারনত লিকুইড নাইট্রোজেন ব্যবহার করা হয় যার তাপমাত্রা থাকবে -১৯৬ °C । James Arnott (1797-1883) সর্ব প্রথম এই ধরনের সার্জারি শুরু করেন টিউমার কোষ বিনষ্ট করার জন্য। মুলত ক্যান্সার প্রতিকারের জন্যই এই ক্রায়োসার্জারীর উদ্ভব।

ডোমেইন নেম

ডোমেইন নেম সিস্টেম (ডিএনএস) ডোমেইন নেমের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য রাখার একটি ব্যবস্থা। এটি মূলত ফোন বুকের মত কাজ করে। এটি সাধারণ মানুষের বোধগম্য কম্পিউটারের হোস্টনেম যেমন example.com কে কম্পিউটারের উপযোগী আইপি এড্রেসে যেমন 208.77.188.166 রুপান্তর করে দেয়, যার মাধ্যমে নেটওয়ার্কিং যন্ত্রাংশগুলি তথ্য বিনিময় করে থাকে। এছাড়া ডিএনএস অন্যান্য তথ্যও রাখে, যেমন মেইল সার্ভারের তালিকা ইত্যাদি। ডিএনএস কিওয়ার্ড ভিত্তিক পুননির্দেশনা ব্যবস্থা পালন করে। বর্তমান ইন্টারনেট ব্যবস্থায় ডিএনএস একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ওয়েব পেজ

ইন্টারনেট তথা ওয়েবে যে কেউ তার প্রয়োজনীয় তথ্য, অডিও, ভিডিও, ছবি ইত্যাদি জমা রাখতে পারে। নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে এগুলো জমা রাখা যায়। ওয়েবে এরুপ তথ্য রাখার স্পেস বা পেজকে ওয়েব পেজ বলা হয়। এটি এক বা একাধিক পৃষ্ঠার হতে পারে। প্রথমে যে পেজটি দেখা যাবে তাক হোম পেজ বলা হয়। ইন্টারনেটে সার্বক্ষনিক যুক্ত কোন বড় কম্টিউটারকে সার্ভার বলা হয়, এতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাকার বিনিময়ে স্পেস বা জায়গা পাওয়া যায় যাতে ওয়েবসাইট রাখা যায়। ওয়েব পেজের অবশ্যই ঠিকানা থাকে, একে URL বলা হয়। একটি URL-এ একাটই ওয়েব পেজ থাকতে পারে। কোন ওয়েব পেজ যে বিষয়ে সেই বিষয়ে কেউ সার্চ ইন্জিনে সার্চ করলে সেই পেজটিকে খুঁজে পাওয়ার ব্যবস্থা করা যায়।

ওয়েব সাইট

কোনো ওয়েব সার্ভারে রাখা ওয়েব পেজ, ছবি, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যের সমষ্টিকে ওয়েবসাইট বুঝায়, যা ইন্টারনেট বা ল্যানের মাধ্যমে প্রবেশ করা যায়। ওয়েব পেজ মূলত একটি HTML ডকুমেন্ট, যা HTTP প্রোটোকলের মাধ্যমে ওয়েব সার্ভার থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ওয়েব ব্রাউজারে স্থানান্তরিত হয়।
 ওয়েব সাইটের কাঠামো তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা—
১. মূল পেজ : মূল পেজ ব্রাউজার শুরুতে লোড করে। মূল পেজ হলো এক ধরনের সূচি। এই পেজে মূল প্রোগ্রাম, ব্যানার, অ্যানিমেশন যুক্ত থাকে। এখানে মেনু তৈরি করে অন্যান্য পেজের সাথে যুক্ত করা থাকে।

২. মূল সেকশন : মূল পেজের পরের ওয়েব পেজগুলোকে মূল সেকশন বলে। মূল সেকশন কয়েকটি পেজ নিয়ে গঠিত হয়।

৩. উপ সেকশন : মূল সেকশন আবার অনেকগুলো পেজের সাথে যুক্ত থাকে। মূল পেজ থেকে মূল সেকশন এবং মূল সেকশন থেকে উপ সেকশনে পেজের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং লেখার পরিমাণও বাড়তে থাকে।

Cascading Style Sheets

Cascading Style Sheets (CSS) হল একটি ভাষা যা দিয়ে কোন ডকুমেন্ট কিভাবে দেখানো হবে বা সোজা কথায় ডকুমেন্টের স্টাইল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। একটি ডকুমেন্ট হল এক ধরণের তথ্যের সংগ্রহ যার স্ট্রাকচার (কাঠামো) একটি মার্কআপ  ল্যাঙ্গুয়েজের সাহায্যে তৈরি করা হয়।

ফ্লিকার

ফ্লিকার একটি চিত্র এবং ভিডিও আয়োজনের ওয়েবসাইট। ২০০৪ সালে লুডিকর্প কোম্পানি কর্তৃক এটি তৈরি করা হয় এবং ২০০৫ সালে ইয়াহু কর্তৃক ক্রয়কৃত একটি ওয়েব পরিষেবা মাধ্যম এটি। ব্যক্তিগত আলোকচিত্র প্রচার এবং সংস্থাপন করার জন্যে ব্যবহারকারীদের নিকট এটি একটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট এবং কার্যকরী অনলাইন সম্প্রদায়। আলোকচিত্র প্রচার এবং সংস্থাপন করার জন্যে আলোকচিত্র গবেষক এবং ব্লগারদের দ্বারা এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

গুগল+

গুগল+ হচ্ছে গুগল ইনকর্পোরেশনের একটি সোশাল নেটওয়ার্কিং বা সামাজিক যোগাযোগ ওয়েব সেবা। গুগল এই সেবাটি ২৮ জুন ২০১১ তে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে। এই সেবাটির মাধ্যমে গুগলের অন্যান্য সেবাগুলো ব্যবহার করা যায়। ধারণা করা হয়, ৭৫০ মিলিয়ন ব্যবহারকারীর অপর সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেইসবুকের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গুগল এই সেবা চালু করে।

লিঙ্কডইন

লিঙ্কডইন পেশাজীবীদের সামাজিক যোগাযোগের একটি ওয়েবসাইট। সাইটটি ডিসেম্বর, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ৫ মে, ২০০৩ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু করা হয়।[৬] সামাজিক যোগাযোগের এই ওয়েবসাইটটি পেশাজীবীরাই বেশি ব্যবহার করে থাকে। ২০১৩ সালের এক বিবৃতিতে লিঙ্কডইন ঘোষণা দেয় বর্তমানে তাদের নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০০ মিলিয়ন, যারা ২০০টি ভিন্ন ভিন্ন দেশের নাগরিক।[

ইউটিউব

ইউটিউব একটি ভিডিও আদান-প্রদান করার ওয়েবসাইট। ওয়েব ২.০ এর অন্যতম কর্ণধার ইউটিউব বর্তমান ইন্টারনেট জগতের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট যা এর সদস্যদের ভিডিও আপলোড, দর্শন আর আদান-প্রদানের সুবিধা দান করে আসছে। এই সাইটটিতে আরো আছে ভিডিও পর্যালোচনা, অভিমত প্রদান সহ নানা প্রয়োজনীয় সুবিধা। ফেব্রুয়ারি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটির পেছনে ছিলেন মূলত পেপ্যাল প্রতিষ্ঠানের তিন প্রাক্তন চাকুরীজীবি, চ্যড হারলি, স্টিভ চ্যন আর বাংলাদেশী বংশদ্ভুত জাভেদ করিম

বিভিন্ন প্রকার সার্ভার

নেটওয়ার্ক সার্ভার(NETWORK SERVER)

যেকোন নেটওয়ার্কের জন্য সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ অংশ হচ্ছে তার সার্ভার। সার্ভারকে নেটওয়ার্কের প্রান বলে অভিহিত করা হয়। সার্ভার যদি সঠিক ভাবে সার্ভিস প্রদান না করে থাকে তাহলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক ভেঙ্গে পরতে বাধ্য হয়। নেটওয়ার্ক ভুক্ত সকল পিসিকে সর্বদা সার্ভার সার্ভিস দিয়ে থাকে।

ফাইল সার্ভার(file server) :
ফাইল সার্ভারের কাজ হচ্ছে ব্যবহারকারীকে ফাইল শেয়ারের সুযোগ করে দেয়া। এছাড়াও এটি ফাইল সরক্ষন, উত্তোলন এবং এক পিসি থাকে অন্য পিসিতে ফাইল স্থানন্তরের সুবিধা প্রদান করে। ফাইল সার্ভার দ্বারা ক্লায়েন্ট পিসির জন্য কোন প্রকার ডেটা প্রসেসিং এর কাজ করা যায় না।

প্রিন্টার সার্ভার (print server):
প্রিন্ট সার্ভার কাজ হচ্ছে এক বা একাধিক প্রিন্টারের গ্রুপকে নিয়ন্ত্রন করা। তারা বিশেষ করে ক্লায়েন্ট পিসি থেকে আগত প্রিন্টিং অর্ডার জমা করে রাখে। এ বিষয়টিকে বলা হয় কিউইয়িং। প্রিন্ট সার্ভার স্পুলারের সাহায্যে প্রিন্ট অর্ডার কে ধরে রাখে যতক্ষণ পর্যন্ত প্রিন্টার প্রিন্ট করার জন্য তৈরি না হয়। প্রিন্ট একবার প্রস্তুত হলেই সার্ভার তাতে  প্রিন্টিং কাজ শুরু করে দেয়।

এপ্লিকেশন সার্ভার ( application server):
এটি নেটওয়ার্কিং এর অন্তত্য দামি এবং ক্ষমতা শীল সফটওয়্যার পিসি ক্লায়েন্টকে ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়। এটি তার শক্তিশালী মেশিনের সাহায্যে ক্লায়েন্ট পিসির চাহিদা অনুযায়ী ডেটা প্রেসেস করে এবং তার ফালাফল ক্লায়েন পিসি কে ফেরত দেয়। এছাড়া এপ্লিকেশন সার্ভার ব্যবহারের মাধ্যমে যে কোন কোম্পানি তার সফটওয়্যার লাইসেসিং খরচ কমাতে পারে।

মেসেজ সার্ভার (message server):
ফাইল সার্ভিসের মাধ্যমে শুধুমাত্র ফাইল ডেটা আকারে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে চলাচল করে। কিন্তু মেসেজ সার্ভারের মাধ্যমে ডেটা গ্রাফিক্স ,অডিও, ভিডিও এবং টেক্সট বাইনারি আকারে চলাচল করে থাকে। বর্তমানে মেসেজ সার্ভিস ডেটা ট্রান্সফারের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম।

ডেটাবেজ সার্ভার( datebase server):
ডেটাবেজ সার্ভার নেটওয়ার্কে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রকৃতির পিসি বা ওয়ার্ক ষ্টেশনকে শক্তিশালী ডেটা বেজ ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়। অধিকাংশ ডেটাবেজ সিস্টেমই ক্লায়েন্ট সার্ভার ভিত্তিক। এটির দুটি অংশ থাকে একটি ক্লায়েন্ট পিসিতে অন্যটি সার্ভারে। এটি মূলত দুর্বল ফাংশন গুলো ব্যবহার করে ক্লায়েন্ট পিসিতে এবং শক্তিশালী ফাংশন এর কাজ করে সার্ভারে।

কম্পিউটার ভাইরাস

কম্পিউটার ভাইরাস  হল এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম যা ব্যবহারকারীর অনুমতি বা ধারণা ছাড়াই নিজে নিজেই কপি হতে পারে। মেটামর্ফিক ভাইরাসের মত তারা প্রকৃত ভাইরাসটি কপিগুলোকে পরিবর্তিত করতে পারে অথবা কপিগুলো নিজেরাই পরিবর্তিত হতে পারে। একটি ভাইরাস এক কম্পিউটার থেকে অপর কম্পিউটারে যেতে পারে কেবলমাত্র যখন আক্রান্ত কম্পিউটারকে স্বাভাবিক কম্পিউটারটির কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। যেমন: কোন ব্যবহারকারী ভাইরাসটিকে একটি নেট ওয়ার্কের মাধ্যমে পাঠাতে পারে বা কোন বহনযোগ্য মাধ্যম যথা ফ্লপি ডিস্ক, সিডি, ইউএসবি ড্রাইভ বা ইণ্টারনেটের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এছাড়াও ভাইরাসসমূহ কোন নেট ওয়ার্ক ফাইল সিস্টেমকে আক্রান্ত করতে পারে, যার ফলে অন্যান্য কম্পিউটার যা ঐ সিস্টেমটি ব্যবহার করে সেগুলো আক্রান্ত হতে পারে। ভাইরাসকে কখনো কম্পিউটার ওয়ার্ম ও ট্রোজান হর্সেস এর সাথে মিলিয়ে ফেলা হয়। ট্রোজান হর্স হল একটি ফাইল যা এক্সিকিউটেড হবার আগ পর্যন্ত ক্ষতিহীন থাকে।

উইকিপিডিয়া ও উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন

উইকিপিডিয়া একটি সম্মিলিতভাবে সম্পাদিত, বহুভাষীক, মুক্ত প্রবেশাধিকার, মুক্ত কন্টেন্ট সংযুক্ত একটি ইন্টারনেট বিশ্বকোষ, যা অলাভজনক উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন কর্তৃক সমর্থিত, আয়োজিত এবং পরিচালিত। স্বেচ্ছাসেবীরা বিশ্বব্যাপী সম্মিলিতভাবে ২৯১টি ভাষার উইকিপিডিয়ায় প্রায় ৩৫ মিলিয়ন নিবন্ধ রচনা করেছেন, যার মধ্যে শুধু ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় রয়েছে ৪.৯ মিলিয়নের অধিক নিবন্ধ। যে কেউ ওয়েবসাইটে প্রবেশের মাধ্যমে যে কোনো নিবন্ধের সম্পাদনা করতে পারেন, যা সম্মিলিতভাবে ইন্টারনেটের সর্ববৃহৎ এবং সর্বাধিক জনপ্রিয় সাধারণ তথ্যসূত্রের ঘাটতি পূরণ করে থাকে।

জানুয়ারি ১৫, ২০০১ সালে জিমি ওয়েলস এবং ল্যারি স্যাঙ্গার উইকিপিডিয়া চালু করেন, পরবর্তীতে এর নাম তৈরি করেন, একটি পিন্ডারিশব্দে উইকি (এটি সম্মিলিত ওয়েবসাইটের এক প্রকার নাম, হাওয়াইয়ান ভাষায় "হাঁটা") এবং বিশ্বকোষ। 'উইকি উইকি' মানে দাঁড়িয়ে ছোট-ছোট পায়ে হাঁটা। উইকি ওয়েব সংস্কৃতিতে সবার ছোট-ছোট অবদান যুক্ত হয়েই এই সাইটটির মত ক্রমবর্ধমান সংগ্রহ গড়ে ওঠে। বর্তমানে এটি সব থেকে বড় এবং সর্বাধিক জনপ্রিয় ইন্টারনেট ভিত্তিক তথ্যসূত্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়

উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। এর প্রধান কার্যালয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ফ্রান্সিস্কো শহরে। প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ফ্লোরিডাতে শুরু করা হয় এবং সেই রাজ্যের আইন অণুযায়ী এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন ইন্টারনেট ভিত্তিক বেশকিছু সমন্বিত উইকি প্রকল্প পরিচালনা করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে উইকিপিডিয়া, উইকশনারী, উইকিউক্তি, উইকিবই (উইকিজুনিয়র সহ), উইকিসোর্স, উইকিমিডিয়া কমন্স, উইকিপ্রজাতি, উইকিসংবাদ, উইকিবিশ্ববিদ্যালয়, উইকিমিডিয়া ইনকিউবেটর এবং মেটাউইকি। প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম প্রধান ইংরেজি উইকিপিডিয়া, বিস্বব্যাপি সর্বাধিক ভিজিট করা প্রথম ১০টি সাইটের একটি ।[জুলাই ২০, ২০০৩ সালে উইকিপিডিয়ার সহপ্রতিষ্ঠাতা জিমি ওয়েলস আনুষ্ঠানিকভাবে উইকিমিডিয়া প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন, যিনি বোমিস নামের প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধায়নে উইকিপিডিয়া পরিচালনা করছিলেন।

ব্লগ

ব্লগ শব্দটি ইংরেজি Blog এর বাংলা প্রতিশব্দ, যা এক ধরণের অনলাইন ব্যক্তিগত দিনলিপি বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক পত্রিকা। ইংরেজি Blog শব্দটি আবার Weblog এর সংক্ষিপ্ত রূপ। যিনি ব্লগে পোস্ট করেন তাকে ব্লগার বলা হয়। ব্লগাররা প্রতিনিয়ত তাদের ওয়েবসাইটে কনটেন্ট যুক্ত করেন আর ব্যবহারকারীরা সেখানে তাদের মন্তব্য করতে পারেন। এছাড়াও সাম্প্রতিক কালে ব্লগ ফ্রিলান্স সাংবাদিকতার একটা মাধ্যম হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক ঘটনাসমূহ নিয়ে এক বা একাধিক ব্লগার রা এটি নিয়মিত আপডেট করেন।

Post a Comment

0 Comments