Header Ads Widget

Responsive Advertisement

Ticker

6/recent/ticker-posts

রাজশাহী রাজার বাড়ি, Rajshahi tamli bari

 


'তামলী রাজার বাড়ি' 



রাজশাহী শহর থেকে ১৯ কিলোমিটার উত্তরে একটি জরাজীর্ণ পুরনো জমিদার বাড়ি। নাম 'তামলী রাজার বাড়ি'। প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো ভবনের অধিকাংশ স্থানই এখন জরাজীর্ণ। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তালিকায় বাড়িটির নাম না থাকায় স্থানীয় এক প্রভাবশালী পরিবার বাড়িটি দখল করে নিয়েছে। বাড়ি ভেঙ্গে ইট বিক্রি করে বানাচ্ছেন ফসলি জমি।


মঙ্গলবার দুপুরে পবার বড়গাছি গ্রামের জমিদার বাড়িটিতে যাওয়ার পর দেখা গেলো মূল সড়ক থেকে জমিদার বাড়িতে যাওয়ার কোনও পথ নেই। শুধু ধান ক্ষেত।


স্থানীয় শামসুজ্জোহা জানান, আগে এই রাজবাড়িতে যাওয়ার জন্য ইটসুড়কি বিছানো প্রশস্ত পাকা পথ ছিল। রাজবাড়ি থেকে দীঘিতে যাওয়ার পথটিও সুন্দর করে পাথরে বাঁধাই করা ছিল। কিন্তু স্থানীয় গোবরা হাকিমের পরিবার এই জমির দখল নিয়ে সব পথ কেটে ফসলের জমি করেছেন। এর ফলে বিভিন্ন এলাকা থেকে রাজবাড়ি দেখতে এসে মানুষ হতাশ হয়ে ফিরে যান।


তাহেরপুর ডিগ্রী কলেজের বাংলার বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক খোন্দকার আমিনুল হকের গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য দিয়ে ঢাকা জাদুঘরের মহাপরিচালক সমরপালের লেখা ‘তাহিরপুর রাজবংশ’ বইয়ের বরাত দিয়ে বেসরকারি সংস্থা হেরিটেজ রাজশাহীর প্রতিষ্ঠাতা মাহাবুব সিদ্দিকী জানান, মোঘল আমলে পশ্চিম বাংলার কিছু পান ব্যবসায়ী রাজশাহী অঞ্চলে পান এবং সুদের ব্যবসা করতেন। মোঘল আমলে বিহার এবং উত্তর প্রদেশে নৌপথে এবং পরবর্তীতে ট্রেনে করে তারা পান পাঠাতেন। তারা একচেটিয়া ব্যবসা করে অনেক টাকার মালিক হয়ে যান। তখন তারা জমিদারি কিনে নেন।


    প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক বদরুল আলম বলেন, '৩০০ বছরের পুরনো জমিদার বাড়ি অবশ্যই আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নসম্পদ। তবে এমন অনেক সম্পদই আমাদের পুরাকীর্তির তালিকায় নাই। আমাদের পুরাকীর্তির তালিকায় তামলী রাজার বাড়িটি এখনও স্থান পায়নি। এ বিষয়ে পত্র পত্রিকায় রিপোর্ট হলে জরিপ প্রক্রিয়া শেষে তালিকাভুক্ত করা হবে।'


তিনি অারও জানান, পানের ফরাসী শব্দ হলো তাম্বুল। এই তাম্বুল থেকেই স্থানীয়রা এর নাম দিয়েছেন তামলী। ১৯০৯ সালের পরে তাহিরপুরের রাজা শশি শেখরেস্বর এর ছেলে শিব শেখরেস্বর জমিদারি লাভ করেন। তিনি নব্য তাম্বুল জমিদারদের সহ্য করতে পারতেন না। তখন তিনি এসব তাম্বুল জমিদারদের উচ্ছেদের জন্য আক্রমণ করতেন। পবার বড়গাছির তাম্বুল জমিদারের বাড়িতে তিনি আক্রমণ করান। লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে এই জমিদারকে উচ্ছেদ করেছিলেন।


'পুরনো এই ভবনটি অবশ্যই পুরাকীর্তি। এটাকে সংরক্ষণ করা আমাদের সবার কর্তব্য' বলে মন্তব্য করেন তিনি।


স্থানীয়রা জানান, প্রয়াত আবু বাক্কার সিদ্দিক চেয়ারম্যানের বাবা আছির উদ্দিন আহমদ ওরফে গোবরা হাকিম চেয়ারম্যান ছিলেন। তার ভাই ছিলেন নায়েব। প্রভাব খাটিয়ে এই জমিদার বাড়িসহ সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেন তিনি। এখন তাদের উত্তরাধিকারীরা এই সম্পত্তি ভোগ দখল করছেন।


বড়গাছি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারি কর্মকর্তা সাজ্জাদ আলী জানান, জমিদার বাড়িটি ১ একর ৭ শতাংশ জমির ওপর। জমিটি ১৯২২ সালের সিএস খতিয়ানে এক জমিদারের নামে আছে। পরে ১৯৬২ সালের এসএ খতিয়ানে আছির উদ্দিন ওরফে গোবরা হাকিম নামে চলে ‌‌‌অাসে।


পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদত হোসেন কবির বলেন, 'জমিদারের সম্পত্তি সাধারণত সরকারের সম্পত্তি হয়। এই জমিটি কিভাবে তাদের নামে গেলো তা তদন্ত করে ঐতিহাসিক জমিদার বাড়িটি রক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'


রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের সাবেক পরিচালক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের প্রফেসর ড. সাইফুদ্দীন চৌধুরী বলেন, 'ব্রিটিশ শাসনের শুরুর দিকে এদেশে নতুন নতুন রাজা ও জমিদারদের উদ্ভব হয়েছিল। এই জমিদারবাড়িটির নির্মাণ শৈলী ইউরোপিয়ান ধাঁচের। এর নির্মাণ শৈলীতে নওগাঁর দুবলহাটি ও বলিহার এর ছায়া লক্ষ্য করা যায়।'


তিনি আরও বলেন, 'পবার বড়গাছির এই জমিদার বাড়িটি ২৫০ থেকে ৩০০ বছর আগের। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দায়িত্ব এই জায়গাটি দখলে নিয়ে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া।'


প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক বদরুল আলম বলেন, '৩০০ বছরের পুরনো জমিদার বাড়ি অবশ্যই আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নসম্পদ। তবে এমন অনেক সম্পদই আমাদের পুরাকীর্তির তালিকায় নাই। আমাদের পুরাকীর্তির তালিকায় তামলী রাজার বাড়িটি এখনও স্থান পায়নি। এ বিষয়ে পত্র পত্রিকায় রিপোর্ট হলে জরিপ প্রক্রিয়া শেষে তালিকাভুক্ত করা হবে।'

Post a Comment

0 Comments